আল্লাহর রহমত লাভের ১০ কাজ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ২ years ago

মুফতি মাহবুব হাসান : রহমত অর্থ দয়া, করুণা ও অনুগ্রহ। মহান আল্লাহ হলেন অত্যন্ত দয়াশীল। তার দয়ার কোনো সীমা নেই। তিনি পরম করুণাময় অতি দয়ালু। তিনি সর্বদা সৃষ্টিকুলের ওপর অজস্র রহমত বর্ষণ করে যাচ্ছেন। তার রহমতেই টিকে আছে সৃষ্টিকুল। এমন ১০টি আমল বা কাজ আছে, যেগুলো করলে বিশেষভাবে মহান আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা তোলে ধরা হলো।

মাখলুকের প্রতি দয়া করা : মহান আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। সকল সৃষ্টি মহান আল্লাহর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। তাই মহান আল্লাহর যেকোনো সৃষ্টির প্রতি দয়া করলে তার দয়া লাভ করা যায়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দয়াশীলদের ওপর করুণাময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা দুনিয়াবাসীকে দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের দয়া করবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)

ফরজ বিধান পালন করা : মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করে আমাদের ওপর কিছু ফরজ বিধান আবশ্যক করে দিয়েছেন। এতে তার ইচ্ছা হলো বান্দার পরীক্ষা নেওয়া। তিনি দেখতে চান, তার কোন কোন বান্দা তার আবশ্যক বিধানাবলি পালন করে। যারা তা পালন করবে তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে। আর তিনি এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য রেখেছেন চিরস্থায়ী জান্নাত। এ ছাড়া ফরজ বিধান পালনের মাধ্যমে বান্দা দুনিয়াতে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করতে পারে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমরা নামাজ আদায় করো, জাকাত প্রদান করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো। যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হতে পারো।’ (সুরা নুর ৫৬)

ইহসান করা : ইহসান ব্যাপক অর্থবোধক একটি শব্দ। এর একটি অর্থ হলো দয়া ও অনুগ্রহ করা বা দয়ার গুণ থাকা। আরেক অর্থ হলো মহান আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে ইখলাসের সঙ্গে ভয় ও আশা নিয়ে তার ইবাদত করা। প্রতিটি কাজ যথাযথ সুন্দর, সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পাদন করাই ইহসান। এমন লোকদের বলা হয় সৎকর্মপরায়ণশীল। এমন গুণ আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে সহায়ক হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর অনুগ্রহ সৎকর্মপরায়ণদের নিকটবর্তী।’ (সুরা আরাফ ৫৬)

তাকওয়া অবলম্বন করা : তাকওয়া বলা হয় সব বিষয়ে একমাত্র মহান আল্লাহকে ভয় করা, তার ভয়ে সব ধরনের গুনাহ পরিত্যাগ করা এবং নিজেকে সবসময় আল্লাহ অভিমুখে রাখা। সব বিষয়ে সর্বদা মহান আল্লাহর প্রতি এমন ভয় থাকলে তার অনুগ্রহ লাভ করা সম্ভব। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আর আমার দয়া প্রত্যেক বস্তুতে ব্যাপ্ত। সুতরাং আমি তা তাদের জন্য নির্ধারিত করব, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, জাকাত দেয় এবং আমার নিদর্শনে বিশ্বাস করে।’ (সুরা আরাফ ১৫৬)

দ্বীনের জন্য আত্মত্যাগ : মহান আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম। এই দ্বীনের প্রতি যারা বিশ্বাস স্থাপন করবে, দ্বীনের আবশ্যকীয় বিষয়াবলি যথাযথভাবে পালন করবে, দ্বীন রক্ষা করবে এবং এই দ্বীনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করবে তাদের প্রতি মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করবেন। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘যারা ইমান আনে, হিজরত করে এবং সংগ্রাম করে আল্লাহর পথে, তারাই আল্লাহর অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে। আল্লাহ ক্ষমাপরায়ণ, পরম দয়ালু।’ (সুরা বাকারা ২১৮)

আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য : মহান আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া মুক্তির কোনো উপায় নেই। আর তিনি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীবাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। তাকে সর্বশেষ নবী ও রাসুল হিসেবে নির্বাচন করেছেন। তার আনুগত্য করাকে আমাদের জন্য আবশ্যক করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহকে পেতে হলে তার আনুগত্য করা আবশ্যক। মহান আল্লাহ এবং তার রাসুলের আনুগত্য করলে আল্লাহতায়ালা দয়া করেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করো, যাতে তোমরা দয়া লাভ করতে পারো।’ (সুরা আলে ইমরান ১৩২)

কোরআনের অনুসরণ : কোরআন মানবজাতির হেদায়েদের পথপ্রদর্শক। মহান আল্লাহ সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এই গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন। দ্বীনি বিষয়ে মানবজাতির সমস্যার সমাধান, উপদেশ, ঘটনা, মহান আল্লাহর মহত্ত্ব ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা রয়েছে কোরআনে। কোরআনের অনুসরণের মাধ্যমেও বান্দা মহান আল্লাহর দয়া লাভ করতে পারে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘এই কিতাব আমি অবতীর্ণ করেছি, যা কল্যাণময়। সুতরাং তার অনুসরণ করো এবং সাবধান হও, তা হলে তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হবে।’ (সুরা আনআম ১৫৫)

কোরআন তেলাওয়াত শোনা : মনোযোগসহ কোরআন তেলাওয়াত শুনলে মহান আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগের সঙ্গে তা শ্রবণ করবে এবং নিশ্চুপ হয়ে থাকবে, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়।’ (সুরা আরাফ ২০৪)

অনুগ্রহ লাভের দোয়া : মহান আল্লাহর কাছে দয়া লাভের দোয়া করলে তিনি দয়া করেন। এ জন্য মহান আল্লাহ আমাদের দোয়া শিখিয়েছেন, ‘রাব্বানা আতিনা মিল্লাদুনকা রহমাতাও ওয়া হায়্যি লানা মিন আমরিনা রশাদা।’ অর্থাৎ হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের আপনার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করুন।’ (সুরা কাহাফ ১০)

ক্ষমা প্রার্থনা করা : মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি অত্যন্ত খুশি হন এবং বান্দার প্রতি দয়া করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন কল্যাণের আগে অকল্যাণ ত্বরান্বিত করতে চাইছ? কেন তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না, যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পারো?’ (সুরা নামল ৪৬) মহান আল্লাহ আমাদের এসব কাজ বেশি বেশি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।