আলোচিত কাটাবনিয়া ফের ইয়াবাঘাটে পরিনত : সমূদ্র পথ দিয়ে আসছে বস্তা বস্তা ইয়াবা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
আলোচিত মানব পাচারের এ্যায়ারপোর্ট নামে খ্যাত সাবরাং কাটাবনিয়া ফের ইয়াবার ট্রানজিট রুটে পরিনত হয়েছে। সাগর পথে মানবপাচার কার্যক্রম বন্ধ হবার পর এটিকে এখন মানবপাচারকারী শীর্ষ দালালেরা ইয়াবা ট্যাবলেট প্রবেশের নিরাপদ স্থান হিসাবে বেচে নিয়েছে। নৌ-পথের চেয়ে সাগর উপকূলীয় এলাকা এখন ইয়াবা পাচার বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে প্রতিনিয়তই বস্তা বস্তা ইয়াবা জব্দ হচ্ছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ইয়াবার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পাচারকারী ধরা পড়ছেনা। যার কারণে ইয়াবা পাচার অব্যাহত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযান সফল দাবী করলেও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, এটি অসফল অভিযান। অর্থাৎ এটিকে তারা অপরাধ ও অপকর্মে জিয়ে রাখার শামিল বলে অভিমত প্রকাশ করেন। অপরদিকে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য, অভিযানে উপস্থিতিতি আঁছ করতে পেরে ইয়াবার চালান ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে অস্ত্র ধারীর হাত থেকে ওরা ক্রমান্নয়ে রক্ষা পেয়ে আসছে এবং বাড়ছে চোরাচালান ও ব্যবসা। ধেয়ে আসছে ইয়াবার আগ্রাসন। বিপদগামী হচ্ছে, বেশীরভাগ যুব সমাজ। অবনতি হচ্ছে, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি। আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা জব্দ ও আটক পরিমান সংক্রান্ত বিষয়ে সঠিক তথ্য নিয়ে চলছে, লুকোচুরি খেলা। নিয়মানুযায়ী আটক স্থানে মালামালের স্বাক্ষ্যদের সামনে পরিমাণ করার নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হচ্ছেনা। ফলে এ ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার পেতে সংবাদকর্মীসহ অনেকেই বেগপেতে হচ্ছে। অবশ্যই এনিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে সচেতন ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করার পর থেকে ইয়াবা পাচার বৃর্দ্ধি পেয়ে আসছে। এর নেতৃত্ব দিচ্ছে, মূলতঃ মানবপাচারকারী শীর্ষ পর্যায়ের দালালেরা। অনুসন্ধান করতে গিয়ে এসব তথ্য ভেসে উঠেছে। তথ্যানুযায়ী সাবরাং ইউনিয়নের নৌ ও সাগর উপকূল এলাকার বেশীরভাগ মানব পাচারকারী দালালেরা জড়িত। ওরা রোহিঙ্গা মানবপাচারের সুযোগকে পুঁজি করে ভিন্নপথে নিয়ে আসছে ইয়াবার চালান। জনশ্রুত অনুযায়ী সাবরাং শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়া, ঘোলার পাড়া, মিস্ত্রি পাড়া, দক্ষিণ পাড়া, পশ্চিম পাড়া, কাটাবনিয়া, কচুবনিয়া, আলীর ডেইল, কোয়াংছড়ি পাড়া ও ডেইল পাড়া এলাকার শীর্ষ মানব পাচারকারী দালালেরা ইয়াবা পাচার পেশায় বেশীরভাগ জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারী গোয়েন্দা তথ্য কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ার কারণে আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকেরা তথ্য পেতে অনেক ক্ষেত্রে অভিযান নিঃ সফল হচ্ছে। যাহা নিয়ে অতীতে প্রায় কথা উঠছে। উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি সাবরাং মুন্ডার ডেইল নৌ-ঘাট এলাকা দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান খালাস কালে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আধিপাত্য বিস্তার ঘটেছিল। এ ঘটনা যেতে না যেতেই ২২ ফেব্রুয়ারী ভোর ৫ টায় সাগর পথ দিয়ে আসা ১১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবার একটি বড় চালান কাটাবনিয়া এলাকায় খালাস কালে বর্ডারগার্ড (বিজিবির) হাতে জব্দ হয়। এ সময় কর্তব্যরত বিজিবি পাচারকারী কাউকে আটক করতে পারেনী। ফলে ওরা আরো বেপরওয়া হয়ে ক্ষতি পোষাতে ফের ইয়াবা পাচার ও ব্যবসা চালিয়ে যাবে। অপর দিকে ২৩ ফেব্রুয়ারী ভোরে কোষ্টগার্ড বাহিনী সেন্টমার্টিনদ্বীপের উপকূলে অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা জব্দ করে। এসময় ওরা কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নী। এমন মন্থব্য অভিজ্ঞজনদের। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, টেকনাফ সীমান্তের আলোচিত ইয়াবা দুর্গে আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযান এবং ধর পাকড় কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ায় এতদাঞ্চলে ইয়াবা পাচার ও ব্যবসা প্রসারিত হয়ে ক্রমান্নয়ে ধেয়ে আসছে। প্রতি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বাড়ছে, ইয়াবার খুচরা ব্যবসাও। এ নিয়ে সচেতন জনগণ উদ্বিঘœ। অনেকেই এ যাতনা সহ্ন্য করতে না পেরে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ এলাকায় চলে যাচ্ছে। এ নিয়ে টেকনাফ উপজেলা মাসিক আইন শৃংখলা ও চোরাচালান ট্রাসফোর্স প্রতিরোধ কমিটির সভায় এর রোধে একাদিকবার সিদ্ধান্ত গৃহীত হবার পরও কমিটি কাংখিত অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌছতে না পারায় এসব সিদ্ধান্ত শুধু লালফিতার মধ্যেই আবদ্ধ রয়েছে। সম্প্রতি টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা পাচারের হালচাল সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় দৈনিক কক্সবাজার৭১ ও টেকনাফ টুডেতে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হবার পর সংশ্লিষ্ঠদের হাতে ইয়াবার চালান জব্দ হলেও আটক হচ্ছেনা এর সাথে জড়িতরা। অপেক্ষা করুন তথ্যভিত্তিক সংবাদের জন্য।