টেকনাফ টুডে ডেস্ক : আধুনিক বাংলা নাটকের অন্যতম সফল নাট্যকার সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বাংলায় বিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মধ্যযুগের বাংলা নাট্য’ অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগ দেন। খ্যাতিমান অধ্যাপক ও নাট্যকার পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন গবেষক, সংগঠক, নাট্যনির্দেশক এবং শিল্পতাত্ত্বিক। মুক্তিযুদ্ধ-উত্তরকালে ‘ঢাকা থিয়েটার’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্যনির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার গড়ে তোলেন এবং দেশব্যাপী কাজ করতে থাকেন। সেলিম আল দীনের উল্লেখযোগ্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ সর্পবিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক (১৯৭৩), জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন (১৯৭৫), বাসন (১৯৮৫)। তিনটি মঞ্চ নাটক : মুনতাসির, শকুন্তলা ও কিত্তনখোলা (১৯৮৬)। কেরামতমঙ্গল (১৯৮৮), প্রাচ্য (১৯৯৮), হাতহদাই (১৯৯৭), যৈবতী কন্যার মন (১৯৯৩), চাকা (১৯৯১), হরগজ (১৯৯২), একটি মারমা রূপকথা (১৯৯৫), বনপাংশুল (১৯৯৬), নিমজ্জন (২০০২), ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল (২০০৭), ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমণীগণ (নৃত্যনাট্য, ২০০৭), পুত্র (২০০৮) ইত্যাদি। তিনি ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’, ‘নান্দীকার পুরস্কার’, ‘খালেকদাদ সাহিত্য পুরস্কার’, ‘অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার’ এবং ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। সেলিম আল দীন ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
