বিশেষ প্রতিনিধি।
অবশেষে বন্ধ হলো কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে ‘খাস কালেকশানের’ নামে অবৈধ অর্থ আদায়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার অর্থ আদায় না করার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানান, আজ সোমবার বিকেলে ঘাটে টাকা আদায়ের সাথে জড়িতদের এমন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তিতে ‘জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যোগ করেন’।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ-আল-মারুফ এবং কক্সবাজার পৌরসভার জামায়াত নেতা আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি চক্র জেটিঘাট থেকে ‘খাস কালেকশানের’ নামে অর্থ আদায় করে আসছিল। অফিসের এক নৈশ্যপ্রহরীকে ‘ইজারাদার’ দেখানো হয়।
আরো অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি ১৫ লাখ টাকায় জেটি ঘাট বিক্রির পাশাপাশি- জালিয়াপাড়া ঘাট ৭ লাখ এবং দক্ষিণ পাড়া ঘাট ২ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয় একাধিক ব্যক্তির কাছে। এছাড়াও মাছ ধরার বড়শির জন্য ৫০ হাজার টাকা, পানি সংগ্রহের জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, প্রতিটি যাত্রী থেকে ১০-২০ টাকা, মাছের ড্রামপ্রতি ১০০ টাকা, ট্রলারপ্রতি বছরে ৪ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছিল। অর্থ আদায়ের জন্য নৈশ প্রহরীর নামে জন্য ছাপানো হয়েছিল রশিদ। অর্থাৎ একটি সংগঠিত টোল আদায় ব্যবস্থা চালানো হচ্ছিল প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের প্রস্তুতির খবর পেয়ে গত ২৬ জন খাস কালেকশন’ অনুমোদনের নামে
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ-আল-মারুফ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি তৈরি করা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট ৯ দপ্তরে অনুলিপির কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ দপ্তরে কর্মকর্তারা উক্ত চিঠি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
সরকারি বিধিতে উল্লেখ রয়েছে, জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে জেলা পরিষদ প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির কোনও কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় খাস কালেকশান করতে পারে। কিন্তু ওই চিঠিতে দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন অফিস সহায়ককে। যা আইনের চরম লঙ্ঘন।
স্থানীয় জেলেরা জানান, প্রতিটি যাত্রী থেকে ১০-২০ টাকা, মাছের ড্রামপ্রতি ১০০ টাকা, ট্রলারপ্রতি বছরে ৪ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছিল। এসব টাকার জন্য ছাপানো হয়েছিল পিয়নের নামে রশিদ। অর্থাৎ একটি সংগঠিত টোল আদায় ব্যবস্থা চালানো হচ্ছিল প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ-আল-মারুফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করাহলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমানীত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সাল থেকে শাহপরীরদ্বীপ জেটি ঘাট জেলা পরিষদের অধীনে প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হলেও ২০২৫ সালে তা হয়নি। এই সুযোগেই জেলা৷ পরিষদের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে মিলে চক্রটি খাস কালেকশানের নামে অবৈধ অর্থ আদায় শুরু করে।
