বিশেষ প্রতিবেদক : হ্নীলায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের কেন্দ্র ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনকালে দুপক্ষের সংঘর্ষ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয়পক্ষের ১৮জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালীন ইট-পাটকেল এবং ভাংচুরের ঘটনায় যানবাহনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
জানা যায়,১১ফেব্রæয়ারী বিকাল ৩টারদিকে হ্নীলা ইউনিয়ন উত্তর শাখা বিএনপির উদ্যোগে জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ শাহজাহান চৌধুরীর নেতৃত্বে পদযাত্রার একটি মিছিল বের হয়ে হ্নীলা ষ্টেশনের পালকি কাউন্টারের সামনে পথসভা করছিল। এর কিছুক্ষণ পর হ্নীলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রাশেদ মাহমুদ আলী এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল হোছন মেম্বারের নেতৃত্বে একটি মিছিল হ্নীলা ষ্টেশনের উত্তর পাশ ঘুরে হ্নীলা সোলাইমান মার্কেটের সামনে সম্প্রীতি মিছিল শুরুর জন্য যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় বিএনপির সভা শেষ হলে লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। দু‘দলের লোকজন একাকার হয়ে গেলে কি নিয়ে সংঘর্ষের সুত্রপাত তা স্পষ্ট করা যায়নি। এরপর সংঘর্ষ শুরু হলে অনেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও ইট-পাটকেল এবং আগ থেকে ওঁৎপেতে থাকা লোকজন গুলাইল ছুঁড়তে থাকে। এসময় আওয়ামী লীগের মিছিলে থাকা লোকজন ভয়ে পিছু হটে। এসময় ভীত-সন্ত্রস্ত ব্যবসায়ী দোকান-পাট বন্ধ করে পালাতে থাকে। এমতাবস্থায় বিএনপির লোকজনের ইট-পাটকেলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোছন মেম্বারসহ ১২জন এবং আওয়ামী লীগ পক্ষের হামলায় হ্নীলা উত্তর শাখা বিএনপির সভাপতি আলী আহমদ মেম্বারসহ ৬জনসহ মোট ১৮জন নেতা-কর্মী আহত হয়। এসময় রাশেদ মাহমুদ আলীর ব্যবহৃত গাড়িসহ সড়কে যাতায়াতকারী বাস, সিএনজি, টমটম এবং দাড়িয়ে থাকা নোহা গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলীর ব্যবহৃত শর্টগান থেকে ৩/৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। আহতদের স্থানীয় ও উপজেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর উত্তপ্ত পরিস্থিতি একটু শিথিল হলে আওয়ামী লীগ সোলাইমান মার্কেটে এসে সম্প্রীতি সমাবেশ করে। এতে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। এছাড়া সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপির লোকজন হোয়াকিয়া সড়কের মাথায় অবস্থানে ছিল।

এই ব্যাপারে হ্নীলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রাশেদ মাহমুদ আলী জানান,আমরা মিছিল নিয়ে ফেরার পরিকল্পিতভাবে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। আমার গাড়িসহ ১৫/২০টি যানবাহনের ক্ষতি সাধন করেছে। এসময় পরিস্থিতি শান্ত করতে আমার ব্যবহৃত শর্টগান থেকে ৪/৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি।
হ্নীলা উত্তর শাখা বিএনপির সভাপতি আলী আহমদ জানান,আমি সমাবেশে সমাপনী বক্তব্য রাখার সময় আওয়ামী লীগের মিছিলটি আমাদের সমাবেশ অতিক্রম করে যায়। তারা ফেরার সময় আমাদের সমাবেশ শেষ হলে লোকজন যে যার দিকে চলে যায়। আওয়ামী লীগের মিছিলটি পানখালীর দিকে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীদের উস্কানির কারণে এই ঘটনার সুত্রপাত বলে দাবী করেন।
এদিকে হ্নীলার রাজনৈতিক সচেতনমহল মনে করেন,দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সহাবস্থানে থাকা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করে আসছে। হঠাৎ দু‘দলের মধ্যে এই ধরনের হিংসাতœক ঘটনা খুবই দুঃখজনক। রাষ্ট্র ক্ষমতার রদ-বদল যাই হোক আর নাই হোক শান্তিপ্রিয় হ্নীলাবাসীর স্বার্থে এই ধরনের ঘটনা মোটেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন। ###
