মুফতি আতাউর রহমান : আমল কবুলের জন্য ঈমান শর্ত। ঈমান না থাকলে কোনো আমল আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে না। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি ঈমান গ্রহণ করে কিন্তু শরিয়তের বিধি-বিধান মান্য না করে, এমন ব্যক্তির পরিণতি কী হবে? উত্তর হলো—এমন ব্যক্তি তার পাপের শাস্তি ভোগ করার পর জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। ঈমান ব্যক্তিকে কোনো না কোনো জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেই।
একাধিক বিশুদ্ধ হাদিসে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) একজন মুয়াজ্জিনকে ‘আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলতে শুনে বললেন, তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়েছ। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৮২)
উবাদা বিন সামিত (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি—‘যে সাক্ষ্য দিল আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করেছেন। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯)
এমন হাদিস দ্বারা বাহ্যত মনে হয়, ঈমানের সাক্ষ্য দানকারী জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। অথচ অন্যান্য আয়াত ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে ঈমান গ্রহণের পর কোনো ব্যক্তি আল্লাহর বিধান অমান্য করলে তাঁকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। কিয়ামতের দিন জাহান্নামিদের জিজ্ঞাসা করা হবে, কেন তোমরা সাকার নামক জাহান্নামে এলে? তারা বলবে, আমরা তো নামাজি ছিলাম না এবং আমরা মিসকিনদেরও খাবার দিতাম না; বরং আমরা সমালোচনাকারীদের সঙ্গে সমালোচনায় নিমগ্ন থাকতাম। এমনকি আমরা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করতাম। আর এভাবেই হঠাৎ আমাদের মৃত্যু এসে গেল। ’ (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত : ৩৮-৪৭)
প্রাজ্ঞ আলেমরা উভয় প্রকার দলিলের ভেতর এভাবে সমন্বয় করেন যে—১. যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সঙ্গে কলেমা পাঠ করে সে আল্লাহর অবাধ্য হয় না। কেননা আনুগত্য ঈমানেরই দাবি।
২. কলেমা পাঠকারীর জন্য স্থায়ী জাহান্নাম হারাম। তারা চিরদিন জাহান্নামে থাকবে না। বরং শাস্তি ভোগের পর মুক্তি পাবে।
৩. যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সঙ্গে কলেমা পাঠ করে, আল্লাহ তার অতীতের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেন। সুতরাং ব্যক্তি কলেমা পাঠ করার জন্য নতুন কোনো পাপ না করলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।
আল-মাউসুয়াতুল আকাদিয়া
