পালংখালীর বাবুল মেম্বার ৫৫হাজার ই*য়া*বা ও ২টি অ*স্ত্র-বুলেটসহ টেকনাফ হতে গ্রেফতার

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

হুমায়ূন রশিদ : কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা টেকনাফে অভিযান চালিয়ে উখিয়া উপজেলার শীর্ষ মাদক কারবারী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী গডফাদার পালংখালী ইউপি মেম্বার জাফরুল ইসলাম ওরফে বাবুল মেম্বারকে ৫৫হাজার ইয়াবা, ২টি দেশী-বিদেশী অস্ত্র ও বুলেটসহ গ্রেফতার করেছে।

সুত্র জানায়,গত ৪ঠা অক্টোবর রাতে কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং কাটাখালীতে অভিযান চালিয়ে মায়ানমার হতে চোরাকারবারির অন্যতম মূলহোতা কক্সবাজারের শীর্ষ মাদক এবং অস্ত্র ব্যবসায়ী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী, পালংখালী বটতলীর আব্দুর রশিদের পুত্র,পালংখালী ইউপির ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার জাফরুল ইসলাম প্রকাশ বাবুল মেম্বার (৪২) কে গ্রেফতার করে। এসময় তার নিকট হতে ৫৫হাজার ইয়াবা, ১টি বিদেশী পিস্তল, ১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলা-বারুদ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত জাফরুল ইসলাম ওরফে বাবুল মেম্বার একজন জেলার উখিয়ার পালংখালীর অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী। সে পার্শ্ববর্তী দেশ হতে মাদক চোরাচালানের গডফাদার হিসেবে পরিচিত। গ্রেফতারকৃত বাবুল মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য এলাকায় ২০-২৫ জনের একটি চক্র গড়ে তোলে। গ্রেফতারকৃত বাবুল মাদক ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় চাঁদাবাজি, স্বর্ণ চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র, জোরপূর্বকভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন, অবৈধভাবে চোরাই পথে গবাদি পশু চোরাচালান, অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটির ব্যবসাসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গ্রেফতারকৃত বাবুল ২০০৫ সালের পরে পালংখালী সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অন্যান্য চোরাচালানের সাথে জড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ পথে মাদক এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিত। ২০১৭ সালে এলাকার মাদক ব্যবসায়ী লুৎফুর রহমানের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পলাতক তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা শীর্ষ সন্ত্রাসী নবী হোসেনের সাথে তার পরিচয় হয়। নবী হোছনের সাথে পরিচয়ের পর থেকে গ্রেফতারকৃত জাফর ওরফে বাবুল মেম্বচার বিশদ আকারে মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িয়ে পড়ে। গ্রেফতারকৃত জাফর পলাতক নবী হোসেনের সাথে চুক্তি করে চিংড়ি ব্যবসার আড়ালে রাতে আধারে পার্শ্ববর্তী দেশে হতে নাফ নদী দিয়ে মাদক, অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালান করে আসছে। সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে মাদকসহ অন্যান্য চোরাকারবারির সময় তার দলের ২০-২৫ জন সশস্ত্র সদস্য পাহারা দিয়ে চালান বাংলাদেশে পৌঁছাতো। গ্রেফতারকৃত বাবুল পার্শ্ববর্তী দেশ হতে সপ্তাহে ৪/৫টি ইয়াবার চালান এনে অস্ত্রধারী কেরিম্যানদের সহযোগিতায় বালুখালী ক্যাম্প সংলগ্ন তার নিয়ন্ত্রিত বেশকিছু চিংড়ির খামারের ভিতরে মওজুদ রাখতো। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আনা প্রতি চালানে প্রায় ২লক্ষ পিস ইয়াবা থাকতো এবং তা দেড় লক্ষ টাকায় কিনে এনে প্রায় ৩/৪ লক্ষ টাকায় বিক্রি করত। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত বাবুল পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে স্বর্ণ এনে তা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করত।

জাফরুল ইসলাম ২০০১ সালে চট্টগ্রাম একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে ভর্তি হয়ে ১বছর পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়। পরে ২০০৩ সালে স্থানীয় কলেজ হতে বিএ পাশ করে। সে ২০০৫ সালে পালংখালি এলাকায় জাবু নামের এক ব্যক্তির খুনের দায়ে ঐ মামলার আসামি হয় এবং চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকে। তার বিরুদ্ধে ২০০৮সালে টেকনাফ থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের হয়। সে ২০১৭ সালে জাবু হত্যা মামলায় প্রায় ২ মাস কারাভোগ করে সে জামিনে বের হয়। সে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালানসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অবৈধভাবে কক্সবাজারে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, ডাম্পার, ট্রাক, জমি এবং মাছের প্রজেক্টসহ প্রায় ৫০কোটি টাকার পরিমান সম্পদ গড়ে। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজারের উখিয়া থানায় হত্যা, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে ৯টির অধিক মামলা রয়েছে।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আবু সালাম চৌধুরী জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ###