টেকনাফ থানা পুলিশের অভিযান ; মালয়েশিয়া পাচারের প্রস্তুতিকালে ৪জন দালাল এবং ৫৮জন নারী-পুরুষ ও শিশু উদ্ধার

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ২ years ago

হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে বঙ্গোপসাগর উপকূল দিয়ে চোরাইপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের প্রস্তুতিকালে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪জন মানব পাচারকারী দালালসহ ৫৮জন নারী-পুরুষ ও শিশু ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে।

২৫ নভেম্বর দুপুর পৌনে ১২টারদিকে টেকনাফ মডেল থানা কনফারেন্স রোমে সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) রাসেল (পিপিএম, সেবা), টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মুহাম্মদ ওসমান গণি জানান,কক্সবাজার পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজুল ইসলাম পিপিএম (বার) এর নির্দেশক্রমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) পিপিএম-সেবা এর তত্ত¡াবধানে এবং অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ ওসমান গনির নেতৃত্বে টেকনাফ মডেল থানার বিশেষ চৌকষ টিম গত ২৪নভেম্বর সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টারদিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনাস্থ বিজিবি সাইনবোড সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কের পূর্ব পাশে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টাকালে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের ইয়াছিন বাহিনীর প্রধান সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়ার আমজল হোসেনের পুত্র মোঃ ইয়াছিন (২৩), দরগাহ ছড়ার জলু সওদাগরের পুত্র মোঃ জুবায়ের (৩৫), উত্তর লম্বরীর বাদশা মিয়ার পুত্র নাজির হোছন (৬১) এবং নোয়াখালী বেগমগঞ্জ থানার দূর্গাপুরের লক্ষী নারায়নপুরের তাজুল ইসলামের পুত্র রামিমুল ইসলাম রাদীদ (৩১) কে গ্রেফতার করা হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় মানব পাচারের শিকার হওয়া ভিকটিম ৯জন পুরুষ, ১৬জন নারী ও আইনের সংস্পর্শে আসা ৩৩জন শিশুসহ মোট ৫৮জনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়। উদ্ধারকৃত ৫৮জনের মধ্যে ৫৭জন মায়ানমারের নাগরিক এবং ১জন বাঙ্গালী। উপরোক্ত ৫৭জন উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা। ভিকটিমদের আর্থ-সামাজিক অনগ্রসরতা ও পরিবেশগত অসহায়ত্বকে পুঁজি করে উন্নত জীবন-যাপন, অধিক বেতনে চাকুরী ও অবিবাহিত নারীদেরকে বিবাহের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা পূর্বক ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিয়া যৌন নিপীড়ন,প্রতারণামূলক বিবাহ ও জবরদস্তিমূলক শ্রমসেবা আদায় এর লক্ষ্যে ৩/৪দিন যাবত ধাপে ধাপে আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে ভিকটিমদের এনে পাচারের প্রস্তুতি নেয়। পরে মানব পাচারকারীরা বিভিন্ন সিন্ডিকেটের যোগসাজশে মায়ানমার, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনিশিয়া ভিকটিমদের পাচার করে। অপরাপর সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আটক মানব পাচারকারী দালালদের সংশ্লিষ্ট আইনের মামলায় আদালতে প্রেরণ এবং উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ###