টেকনাফে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের তালিকায় বাদ পড়া ৪৮০জন রো*হি*ঙ্গা নারী-পুরুষের তথ্য যাছাই

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

হুমায়ূন রশিদ : বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নাগরিকদের স্বদেশ মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরকৃত তালিকা হতে বাদ পড়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের তথ্য যাছাই করার জন্য আসা প্রতিনিধি দলের গত ৭দিনে ১৭৭টি পরিবারের ৪শ৮০জনের তথ্য যাছাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।

২১মার্চ (মঙ্গলবার) বিকাল পর্যন্ত ১৮টি পরিবারের ২৭জনের সাথে স্বাক্ষাত করে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাছাই করা হয়েছে। এরপূর্বে ১৫মার্চ ২৮টি পরিবারের ৭৬জন,১৬মার্চ ২৩টি পরিবারের ৭৭জন, ১৭মার্চ ২৮টি পরিবারের ৭৪জন, ১৮মার্চ ২৭টি পরিবারের ৬৯জন, ১৯মার্চ ২৭টি পরিবারের ৭৫জন, ২০মার্চ ২৬টি পরিবারের ৮২জনসহ গত ৭দিনে ১৭৭টি পরিবারের মোট ৪৮০জনের স্বাক্ষাৎকার নিয়ে তথ্য যাছাই করা হয়েছে বলে বিশ^স্থ সুত্র নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে ৮লাখ ৮২হাজার রোহিঙ্গাদের একটি তালিকা দেয়া হয়। যাচাই বাছাই করে মিয়ানমার ৬৮হাজার রোহিঙ্গাদের ফিরতি একটি তালিকা পাঠায়। তাদের পাঠানো তালিকায় অনেক পরিবারের সদস্যরা বাদ পড়ে। বিষয়টি তাদের অবহিত করার পর বিষয়টি বিবেচনায় নেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরে তারা বাদপড়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করার পর বিলম্ব হলেও মিয়ানমার প্রতিনিধি দল উপরোক্ত বিষয়ে বাংলাদেশ সফরে আসেন।

মিয়ানমার প্রত্যাবাসন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর দিকে পরিবার ভিত্তিক প্রত্যাবাসনের আওতায় ১ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলছেন। এরমধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ’খানেক রোহিঙ্গা শরণার্থীও রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে দেওয়া তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৭০হাজার রোহিঙ্গা নাগরিককে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল মিয়ানমার।

উল্লেখ্য,২০১৭ সালে মিয়ানমার হতে রোহিঙ্গা নাগরিকদের নির্যাতন ও হত্যায় বিতাড়নের ৩ মাসের মাথায় নভেম্বরে প্রত্যাবাসন বিষয়ে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের চুক্তিসই হলেও গত ৬বছরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কোন ধরনের অগ্রগতি হয়নি। ২০১৮সালে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের নির্ধারিত সময়ে ১ম দফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। পরে চীনের মধ্যস্থতায় ২০১৯ সালে আবারো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা হয়েছিলো। কিন্তু মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ২০২১ সালের ফেব্রæয়ারীতে সেনা অভ্য্্ুত্থানে সেনাবাহিনী মিয়ানমারের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্র্যাবর্তনের জন্য বাংলাদেশ চীনসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সাথে কুটনৈতিক তৎপরতার কারণে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত নিতে রাজি হয়। অবশেষে মিয়ানমার
কর্তুপক্ষের হাতে হস্তান্তরকৃত রোহিঙ্গাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের পর সবকিছু ঠিক থাকলে শীঘ্রই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত চলতি বছরের গত ১৫মার্চ (বুধবার) সকাল ১১টারদিকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা তালিকা যাছাই ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তদারকি বিষয়ক ১৭সদস্যের প্রতিনিধি দল বিশেষ স্পীডবোটযোগে টেকনাফ জেটিঘাঁট দিয়ে বাংলাদেশে আসেন। প্রতিনিধি দলটি টেকনাফ স্থলবন্দর সংলগ্ন রেস্ট হাউসে অবস্থান নিয়েছিল। এই কার্য্যক্রম শেষ হলে ২২ শে মার্চ সকালের দিকে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল টেকনাফ ত্যাগ করতে পারে। ##