চকরিয়া সোসাইটি বায়তুল মাওয়া জামে মসজিদের জায়গা ফেরত চাওয়ায় সভাপতিকে মামলায় হয়রানি

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া পৌর শহরের সোসাইটিস্থ বায়তুল মাওয়া জামে মসজিদের জায়গায় মজিদিয়া মাদরাসা মার্কেট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতদিন মাদরাসাটি মার্কেটের আয়ের উৎস থেকে পরিচালিত হয়ে আসলেও এখন সরকারি এমপিও পেয়েছে। এতে শিক্ষক কর্মচারী সবাই সরকারি ভাবে বেতন ভাতা পাচ্ছে। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে মসজিদ ও মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মসজিদের জায়গা ফেরত অথবা মার্কেটের দোকান ভাড়া মসজিদকে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। আর এই বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও সুপার মিলে মসজিদ কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার বিকালে সোসাইটি বায়তুল মাওয়া জামে মসজিদের অফিসকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোহাম্মদ আলমগীর।

সংবাদ সম্মেলনের আগে সোসাইটি শাহ মজিদিয়া মাদরাসা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছেন, আমাদের কাছ থেকে কেউ কোন ধরণের চাদা দাবী করেনি। তবে মসজিদ কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন মসজিদ ও মাদরাসার জায়গা নিয়ে জটিলতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপাদত দোকান ভাড়া মসজিদের নামীয় ফান্ডে জমা দিতে বলেছেন। তাতে কারো আপত্তি থাকলে ভাড়া বন্ধ রাখতে বলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী বলেন, মসজিদ মহান আল্লাহ পাকের ঘর। তাই মসজিদের সম্পত্তি নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না। এলাকাবাসী আমাদেরকে মসজিদের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা মসজিদের সহায় সম্পদ কোথায়, কার আছে, তা দেখার দায়িত্ব আমাদের।
তিনি বলেন, মসজিদের জায়গায় মজিদিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মসজিদের জায়গার বিপরীতে দলিল আছে। মাদরাসার নামে তো আলাদা কোন দলিল নেই। এতদিন মাদরাসার কাঠামো দুর্বল ছিল। সেইজন্য মার্কেটের দোকান ভাড়ার টাকা মাদরাসার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এখন মাদরাসা সরকারি এমপিও পেয়েছে। শিক্ষক কর্মচারী সবাই সরকারি ভাবে বেতন ভাতা পাচ্ছে।
এখন সময় এসেছে মসজিদের সম্পত্তি মসজিদকে ফেরত দিতে হবে। আমরা মসজিদ কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মসজিদের জায়গা ফেরত চেয়েছি, অথবা দোকান ভাড়া এখন থেকে মসজিদকে দিতে বলেছি, সেখানে চাঁদাবাজি হবে কেন।

সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন বলেন, সোসাইটি বায়তুল মাওয়া জামে মসজিদের পাশাপাশি মজিদিয়া মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছে আমার বাবা মরহুম মাওলানা বদরুদ্দোজা হেলালী। সেসময় এলাকার আরও প্রবীণ মুরব্বিরা সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাতাদের পরিবারের কাউকে কমিটিতে রাখা হয়নি। অথচ মাদারাসায় ১৫ বছর ধরে সভাপতি আছেন কাউন্সিলর মুজিবুল হক। মুলত সভাপতি মুজিবুল হক ও সুপার মাওলানা নুরুল আবছার মিলে মার্কেটের দোকান ভাড়ার টাকা ভাগবাটোয়ারা করছেন। এই হিসাব জনগনকে দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা সার্ভে করে দেখেছি, মসজিদের জায়গায় মজিদিয়া মাদরাসা মার্কেটটি গড়ে তোলা হয়েছে। মাদরাসার নামে আলাদা কোন দলিল নেই। মাদরাসা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাই আমরা তাদেরকে মসজিদের জায়গা ফেরত দিতে বলেছি। দোকানদার সবাইকে ভাড়া মসজিদ ফাণ্ডে দিতে বলেছি। এই অপরাধের জন্য আমার নামে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন বলেন, কাউন্সিলর মুজিবুল হক মুজিব ইতোমধ্যে এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে নামীদমী সম্মানী পরিবারের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছেন। তিনি সম্মানী লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি করছে। এসবের লাগাম টানা দরকার। তারা মসজিদের জায়গা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা বসে সমাধান না করলে আমরা আইনের আশ্রয় নিয়ে মসজিদের জায়গা বা মার্কেট উদ্ধার করবো। সদিচ্ছা থাকলে বৈঠকে বসুন, আমরা মসজিদের কাগজ জমা দেব, আপনারা মাদরাসার কাগজ জমা দিন।

সংবাদ সম্মেলনে এসময় সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম সোসাইটি বায়তুল মাওয়া জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা বশির আহমদসহ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও মুসল্লীগন উপস্থিত ছিলেন। ##