নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়ায় গত ২৮ ডিসেম্বর চতুর্থ দফায় অনুষ্টিত বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের স্থানীয় থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের কৌশলগত অসহযোগিতার কারণে নৌকার প্রার্থী এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জিয়াকে পরাজিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এইধরণের অভিযোগ তুলে নৌকার মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়াউদ্দিন চৌধুরী মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
আওয়ামীলীগ নেতা জিয়াউদ্দিন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি ১৯৭৩ সনে পেকুয়া জিএমসি ইনস্টিটিউশনে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। পরে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর মাঠে-ময়দানে আমরা মিছিল করতে গিয়ে কত জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। পরে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদে অধিষ্টিত হয়েছি। দীর্ঘ এই ৪৮ বছর আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত।
আমি জাসদ, বাসদ ও বিএনপির থেকে আসিনি। আমার পরিবারে সবাই আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। গত দুইবার জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে নিষ্টার সাথে এলাকার উন্নয়নে দায়িত্ব পালন করেছি।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনের তফসীল ঘোষনার পর নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে বরইতলী ইউনিয়ন ও উপজেলা থেকে আমার নাম পর্যন্ত যায়নি। তবু জেলা আওয়ামী লীগ আমার নাম ১ নম্বরে পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় দপ্তরে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের রিপোর্ট ভাল পেয়ে আমাকে বরইতলী ইউনিয়নবাসির জন্য কাজ করতে নৌকা প্রতিক দিয়েছেন। এই নৌকা বঙ্গবন্ধুর নৌকা, এই নৌকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার, এই নৌকা আওয়ামী লীগের।
কিন্ত চকরিয়া উপজেলা ও বরইতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী নৌকাকে হারাতে কলকাড়ি নেড়েছেন। কিছু আওয়ামী লীগ লোক দেখানো আমার মিটিং-মিছিলে এসেছেন। কিন্ত তলেতলে তারাও নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছেন।
জিয়াউদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, কিছু নীতিহীন নেতা বিশেষ করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনের মতো এবারও জামায়াত নেতা (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মো. ছালেকুজ্জামানের পক্ষ হয়ে কাজ করেছেন। উনাকে জিতিয়েও দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের আগে নৌকার পক্ষে কাজ করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকমীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হয়েছে। চকরিয়া উপজেলার ও জেলার কতিপয় সিনিয়র নেতা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী জামায়াত নেতা ছালেকুজ্জামানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নৌকাকে হারিয়েছেন।
আমি নৌকা নিয়ে কেন হারলাম বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে চাই। দলীয় পদ নিয়ে যারা দলের ভিতরে অন্তঃকোন্দল তৈরী করে নৌকার প্রার্থীকে পারজিত করেছেন তাদের মুখোশ উন্মোচিত হউক এটাই আমার প্রত্যাশা। ##
