করোনা স্বাস্থবিধি উপেক্ষা করে বাহারছড়ায় শীতবস্ত্র মেলার নামে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে লটারী জুয়ার আসর

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর গুচ্ছ গ্রামের মেরিন ড্রাইভ রোডের পশ্চিম পাশ্বে সৈকতের কিনারায় বিশাল সরকারী জায়গায় গরম কালে চলছে শীতবস্ত্র মেলা। অবৈধ ভাবে মেলার অভ্যন্তরে চলছে র‍্যাফেল ড্র এর নামে জমজমাট লটারী জুয়া। সারাদিন লটারীর মাইকিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মেলায় অতিরিক্ত জনসমাগম দ্বিতীয় দফায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশংকা করছে এলাকাবাসী। কারণ এই মেলাতে পণ্য বেচাকেনার চেয়ে লটারী বেশি বেচাকেনা হয় বলে জানা যায়। রাত ১১ টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই লটারী নামে জুয়ার আসর।

মেলায় মাস্কপরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। শীত বস্ত্র মেলার নামে লটারী জুয়ার আসরের অনুমতি দেয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে দিনদিন। গত এক সাপ্তাহ ধরে চলছে মেলার নামে জমজমাট এই জুয়ার আসর। সরেজমিনে দেখা যায় সন্ধ্যা নামলে গরম কালে শীত বস্ত্র মেলায় লটারীর নামে জুয়ার আসরে ৫-৬ জন লোক পাহারায় থাকে। গেইটে সামনে রয়েছে টিকেট কাউন্টার, প্রতিজন ২০ টাকায় টিকেট কেটে ডুকতে হয় মেলাতে। রাত ১১ পর শুরু হয় র‍্যাফেল ড্র এর নামে জমজমাট লটারী খেলা। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। সরেজমিনে আরও দেখা যায়, মেলায় হাতে গুনা কয়েকটি দোকান ছাড়া তেমন কিছু নেই। আনুমানিক ৩-৪ একর সরকারি জায়গায় চারপাশে টিন এবং কাপড় দিয়ে ঘেরাও করা হয়েছে। ভেতরে র‍্যাফেল ড্র এর নামে লটারী জুয়া এবং গানের আসর।

প্রতিদিন হাজার হাজার লোকজন সমাগমন করে মেলা নামে এই জুয়ার আসরে। প্রতিরাতে চলে লাখ লাখ টাকার খেলা। সারাদেশে দ্বিতীয় দফায় কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণবৃদ্ধি রোধে মাস্কপরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন । কিন্তু বাহারছড়ার শামলাপুর শীতবস্ত্র মেলা নামে জুয়ার আসরে জমায়েত হওয়া হাজার হাজার মানুষের মুখে কোন মাস্ক নেই। স্বাস্থ্যবিধিও এখানে মানা হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি দিন সকাল থেকে মেলা আর র‍্যাফেল ড্র এর নামে জমজমাট লটারীর মাইকিংয়ে সরব থাকে পুরো এলাকা। মাইকিংয়ের কারণে এলাকায় শব্দ দুষণে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। সকাল ৭ টা থেকে ৪০-৫০টি ইজিবাইক ও সিএনজিতে মাইক বেঁধে র‍্যাফেল ড্র এর নামে জমজমাট লটারীর খবর প্রচারে সারা গ্রামে শব্দ দূষণ তৈরি করেছে।
এতে সচেতন মহল বাধা দিলে মেলা কমিটির বখাটে গ্যাং দিয়ে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন ক্রেতা জানান, মেলায় যে সব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে, তাও খুব নিম্নমানের। তবে অতিরিক্ত দামও হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। দরদামে অসংগতি করায় প্রতিদিনই ক্রেতাদের সাথে মারামারি, বাকবিতন্ডা লেগেই থাকছে।

এছাড়াও খাবারের দোকান গুলোর অবস্থা আরো শোষনীয়। পচাঁবাসি খাবার ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা নিয়েও হাতাহাতি কম ঘটছে না। মেলার চারপাশে আছে গুচ্ছ গ্রাম আর রোহিঙ্গাদের বসতি। মেলা কমিটির লোকজনের সহযোগিতায় সেই গুচ্ছ গ্রামে চলছে নারী দিয়ে দেহব্যবসা। পতিতা ও খদ্দরের দরদাম ঠিক করা হয় মেলার অভ্যন্তরে। এরপর রাতে খদ্দরের যাতায়াত বেড়ে যায় গুচ্ছ গ্রামের বেশির ভাগ ঘরে। সে সাথে সেখানে জমজমাট মাদকের আসরও চলে বলে জানা গেছে। শীত বস্ত্র মেলার আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক মিটু বলেন, মেলা ও লটারীর অনুমতি প্রশাসন থেকে দেয়া হয়েছে। টাকা খরচ করেই এ আয়োজন। সেখানে সাধারণ মানুষের সমস্যা কোথায় বলে তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়েন। অন্যদিকে মেলার আরেক কর্তা মোঃ ইসমাইল থেকে লটারীর নামে জুয়া আসরের বৈধ কোনো অনুমতি পত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদের বৈধ কাগজ পত্র আছে । সেই বৈধ কাগজপত্র তিনি দেখাবে বললেও দুইদিন অতিবাহিত হলেও তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাননি।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন,টেকনাফ শামলাপুর এলাকায় আয়োজিত শীতবস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলা এবং অবৈধ র্যাফেল ড্র নামের জুয়াখেলা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন মেলার নামে এই করোনা মহামারীতে এই রকম জনসমাগম করার কোনো সুযোগ নেই।