জসিম উদ্দিন টিপু : টেকনাফে উন্নত জাতের “ওপি” নারকেল চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এই প্রজাতির গাছে ফলন ভাল হওয়ায় লোকজন দিন দিন “ওপি” জাতের নারকেল চাষের দিকে ঝুঁকছে। এই চাষ বৃদ্ধি পেলে ডায়রিয়া রোগীর পথ্য এবং গ্রীষ্মকালে পিপাসা মিটিয়ে বাহিরে বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা যায়, টেকনাফের মাটি সাগর ও নাফনদী উপকূলী আবহাওয়ায় উর্বর ও দোয়াশ মাটিতে “ওপি” জাতের নারকেল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সারা বছরই এই জাতের নারকেল গাছ চাষ করা গেলেও মার্চ থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত ওপি জাতের নারিকেল চারা চোপণের উপযুক্ত সময় এবং ৩বছরে ফলন দেয়।
কৃষি বিভাগ সুত্র জানায়, স্থানীয় জাতের নারকেল গাছের চেয়ে এই জাতের চারা ৫/৬বছর পূর্বেই ফলন দেয়। এই জাতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন “ওপি” জাতের নারকেল গাছে সারা বছরই ফলন দেয়। প্রতি গাছে ২শ থেকে আড়াইশ নারকেল ধরে। যা স্থানীয় জাতের চেয়ে ৪/৫গুণ বেশী। সঠিক সময়ে পরিচর্যা করলে এই জাতের নারকেল গাছে আরো বেশী ফলন পাওয়া যায়। পর্যটন এলাকা হওয়ায় টেকনাফে ডাব ও নারকেলের চাহিদা বেশী। বাণিজ্যকভাবে “ওপি” জাতের নারকেল চাষের আবাদ করা হলে এখানকার নারকেল এবং ডাবের চাহিদা পূরণ হয়ে জেলার চাহিদাও মিটিয়ে অন্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় উপজেলার প্রায় ২হাজার পরিবারের মধ্যে চারা বিতরণ করা হয়েছে। এই জাতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা সরকারী-বেসরকারীভাবে আরো অতিরিক্ত চারা বরাদ্দের দাবী জানিয়েছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোছাইন জানান,বেসরকারী সংস্থার উদ্যোগে টেকনাফের ২হাজার পরিবারের মাঝে ওপি জাতের নারকেল গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। তিনি উন্নত প্রজাতির ভিয়েতনামের এই নারকেল চারা চাষীদের মধ্যে বিতরণের দাবী জানান। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ওপি জাতের নারকেলের আশানুরূপ ফলন অর্জনের আহবান জানান।
এদিকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিউল আলম উপরোক্ত দাবী জানিয়ে আরো বলেন, টেকনাফে নারকেল এবং ডাবের চাহিদা বেশী। তাই ভিয়েনামের প্রজাতির নারকেল বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা হলে এখানকার ডাবের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বেকারত্বের অংশ কিছুটা কমবে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের লোকজন মনে করেন, বাণিজ্যিক বাগানের পাশাপাশি প্রত্যেক বসত-বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেকারত্ব দূরীকরণ, আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জনের সাথে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে এই প্রজাতির নারকেল চাষাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ###
