হোয়াইক্যংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারী লালু মেম্বার কারাগারে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

টেকনাফ প্রতিনিধি : টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সিরাজুল মোস্তফা লালু আত্নসমর্পণ করতে আদালতে হাজির হলে বিজ্ঞ আদালত নামনজুর করে করাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গত ১৭ নভেম্বর (রবিবার) কক্সবাজারে আদালতে জামিন প্রার্থণা করলে আদালত তাকে নামন্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশনা দেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ৩০ মার্চ ভোর ৪ টারদিকে টেকনাফের সদর থানার হাবিরছড়া বাজারের পূর্বদিকে পাহাড়ের পাদদেশে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধারে গেলে পুলিশের উপর পাল্টা গুলি ছুড়ে। তাদের ছোঁড়া গুলিতে মোহাম্মদ হোসেন নামের এক যুবক নিহত হন। এবং ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ মামলায় ওই ইউপি সদস্য দীর্ঘ দিন গা ঢাকা দিলেও গত কিছুদিন আগে উচ্চতর আদালত হতে কিছুদিনের জন্য জামিন পায় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিম্ম আদালতে হাজিরের জন্য নির্দেশনা ছিল। এরই প্রেক্ষিতে গত রবিবার আদালতে গেলে মাদক ও অস্ত্র মামলায় জামিন পেলেও হত্যা মামলার জামিন না মন্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করে বিজ্ঞ আদালত।
তিনি হোয়াইক্যং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কথিত যুগ্ন আহবায়ক বশির আহমদের বড় ভাই। এলাকাবাসী জানান তার (লালু) ব্যবসার হাল এখন তিনি দেখভাল করার সম্ভাবন রয়েছে। বশির আহমদও ২০১২ সালে ইয়াবা বিক্রয়কালে র‌্যাবের হাতে আটক হন। প্রায় বছর খানেক করাগাভোগ করে তখন থেকে তারা দুইভাই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সীমান্ত লাগোয়া হোয়াইক্যংয়ের খারাইগ্যাঘোনা এলাকা দিয়ে রমরমা ইয়াবা ব্যবসায় পরিচালনা করছিলেন।
পুলিশ জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কমবেশি ওই এলাকা দিয়ে এখনো ইয়াবা ইয়াবা ব্যবসায় অব্যাহত রেখেছে। এক সপ্তাহ আগেও এক ব্যক্তিকে প্রায় ২হাজার ২শত পিস ইয়াবা সহ আটক করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, প্রভাবশালীর আশ্রয় প্রশ্রয় না পেলে এই কঠিন মুহুর্তে ইয়াবা ব্যবসায় পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এসব কারা করছে তাদের নজরদারী করার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত ওই মাদককারবারীকে চিহ্নীত করে আইনের আওতায় আনায় টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি প্রদীপকুমারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে কমিউনিটি পুলিশ, মাদক নির্মূল কমিটি সদস্যবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। আটককৃত ব্যক্তির আরো একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।