চকরিয়া পৌরসভায় অনিয়মের অভিযোগে সচিবের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিলেন কাউন্সিলর

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : চকরিয়া পৌরসভার সচিব ও এক কাউন্সিলের মধ্যে দ্ব›দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। পৌরসভার অধীন বাসটার্মিনাল এলাকার নতুন কিসেন মার্কেট থেকে একটি দোকান ভাগে না পেয়ে ক্ষুদ্ধ কাউন্সিলর মুজিবুল হক মুজিব গতকাল রোববার সকালে প্রকাশ্যে পৌর সচিব মাস-উদ মোর্শেদের অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌরসভার কাউন্সিলর মুজিব। তাঁর দাবি, পৌর সচিব নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির সঙ্গে জড়িত। সেই কারণে তাঁর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।
চকরিয়া পৌরসভার সচিব মাসউদ মোরশেদ বলেন, পৌরসভার অর্থায়নে সম্প্রতি সময়ে পৌর বাসটার্মিনাল এলাকায় আধুনিকমানের নতুন কিসেন মার্কেট নির্মাণ কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। নিয়মাবলী অনুযায়ী লটারীর মাধ্যমে ব্যবসায়ীসহ সর্ব সাধারণের মাঝে মার্কেটের দোকান সমুহ লাগিয়ত দেয়া হয়। এখাত থেকে আয়ের সমুদয় টাকা পৌরসভার তহবিলে জমা হবে।
তিনি বলেন, পৌর কাউন্সিলর মুজিব নিয়ম লঙ্ঘন করে কিসেন মার্কেটের একটি দোকান ভাগে নিতে মরিয়া। একজন কাউন্সিলর কেন, নিয়মের বাইরে খোদ মেয়রও সেই ধরণের আব্দার করতে পারবেনা। আমি নিয়মের বাইরে ওই কাউন্সিলরকে এ ধরণের সুযোগ দিতে রাজি হচ্ছিলাম না। সেই কারনে তিনি সংক্ষুদ্ধ হয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলাকালে গতকাল রোববার সকাল দশটার দিকে পৌরসভায় দলবল নিয়ে উপস্থিত হয়ে আমার অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষনিক মেয়র আলমগীর চৌধুরী ছাড়াও প্রশাসনের উর্ধ্বতন বিভাগকে জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার চকরিয়া পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুজিবুল হক মুজিব স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে বলেন, সচিব মাস উদ মোরশেদ চকরিয়া পৌরসভায় ২০০৫সালের ২৭এপ্রিল যোগদান করেন। এরপর কয়েক দফা বদলি হলেও আবার চকরিয়ায় ঘুরেফিরে চলে আসেন। এছাড়াও তিনি মেয়রের নির্দেশে পৌরসভার বিভিন্ন ঘাট-গুদি অগ্রিম টাকা নিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে টেন্ডার বিহীন ইজারা দেন। এমনকি কিচেন মার্কেট, কলার আড়ত ও টার্মিনাল এলাকায় উন্নয়নের নামেও তিনি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
মুজিব আরো অভিযোগ করেন, ‘তিনি এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের দাবি থাকা সত্বেও প্রায় একবছর ধরে অসংখ্য বার তদবির করার পরও সড়ক বাতি লাগানো হয়নি। শহরের প্রাণকেন্দ্র চিরিংগা এলাকাটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। তাকে চকরিয়া পৌরসভা থেকে অপসারণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, সচিরের হতক্ষেপ কামনা করছি।’
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘আমি দাপ্তরিক কাজে বর্তমানে ঢাকায় আছি। কাউন্সিলর ও সচিবের মধ্যে ভূল বুঝাবুঝি হয়েছে বলে শুনেছি। তারপরও আমি ঢাকা থেকে আসলেই দুইপক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করে দেব।
তিনি বলেন, তাদের দ্বন্দের কারনে পৌরসভায় কোন ধরণের ব্যাঘাত হয়নি। গতকাল পৌরসভার সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত ছিল। আমি পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে চকরিয়াা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। আগামী দুইবছরকে টার্গেট করে আমার আমলেই চকরিয়া পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করব।