অনলাইন ডেস্ক :
রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মিয়ানমারের ওপর সম্ভাব্য যে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে তার ফলাফল ভালো হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার টাইমসে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউ তুন তুন নাইং, রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখপাত্র ইউ জ্য হতেই এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ইউ ইয়ে মিন ওই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন।
গত ২৫ আগস্টের পর থেকে রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনা অভিযানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের হিসাবে অন্তত ৪ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী। এখনও সেখান থেকে মুসলিমরা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউ তুন তুন নাইং মিয়ানমার টাইমসকে বলেন, ‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এটা ভালো কোনো লক্ষণ নয়। নিষেধাজ্ঞা আরোপের অর্থ হচ্ছে কোনো দেশকে অর্থনৈতিকভাবে অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাধা দেয়া। তারা আমাদের অবাধ ব্যবসা-বাণিজ্যের অধিকার ও দেশের সঠিক উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে এবং এটা ভালো কিছু নয়।’
নিষেধাজ্ঞার ফলে জাতিগত শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে শংকা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে দেশটিকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এটি দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখপাত্র ইউ জ্য হতেই বলেন, ‘কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা চলছে -সেটি কোনো ব্যাপার নয়; তবে গণতন্ত্রের রূপান্তর, অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আমাদের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা পশ্চিমাদের উচিত হবে না।’
এছাড়া দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ইউ ইয়ে মিন বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও অনৈক্য দেখা দিতে পারে।’
ইউ তুন তুন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে মিয়ানমারের অর্থনীতিতে তা সীমিত প্রভাব ফেলতে পারে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিয়ানমারের ব্যবসা-বাণিজ্য সীমিত।
চীন, জাপান, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের তুলনায় ইইউ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য কম হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা মিয়ানমারের অর্থনীতির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবে না।’
