বড় ভাইকে নিয়ে দেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করতে এনজিও কর্মকর্তার চাপ সৃষ্টি, ভয়ে ছোট ভাইয়ের আ*ত্ম*হ*ত্যা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ২ years ago

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর হারুনর রশিদ (৩২) বেশ কয়েকমাস আগে আপন বড় ভাইকে এনজিও থেকে আড়াই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দেন। সেই টাকা পরিশোধ না করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বড় ভাই গাড়ির চালক শাহেদ ও তার স্ত্রী। এই প্রেক্ষাপটে এনজিও কর্মকর্তারা প্রতিদিন বাড়ি এসে ঋণ পরিশোধের চাপ দিতে থাকে দিনমজুর হারুনের উপর। প্রতিদিনের এই চাপাচাপি সহ্য করতে না পেরে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে ছোট ভাই হারুন।

শুক্রবার (২৮ জুন) সকালে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভিলেজারপাড়া এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা।

নিহত হারুন ওই এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে।

ঘটনার বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার (ইউপি সদস্য) মোঃ আয়াত উল্লাহ।

তিনি বলেন, ঋণের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়া ভাইকে না পেয়ে হারুনকেই কিস্তির টাকার জন্য চাপ দিয়ে আসছে এনজিও কর্মকর্তারা। প্রতিদিন এনজিও সংস্থার কর্মকর্তাদের নানামুখী চাপ সহ্য করতে না পেরে নিজের স্ত্রীও চলে যান বাপের বাড়ি। এতে মানসিক চাপ বাড়তে থাকে হারুনের। তা সহ্য করতে না পেরে সর্বশেষ গতকাল আত্মহত্যার পথ বেছে নেন দিনমজুর হারুন।

ঘটনার খবর পেয়ে গতকাল সকালে চকরিয়া থানা পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর। তিনি বলেন, দিনমজুর হারুন তার বড় ভাইকে গ্রামীণ ব্যাংক, প্রত্যাশী সহ কয়েকটি এনজিও থেকে আড়াই লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে দেন। পরবর্তীতে সেই টাকা পরিশোধ না করে স্বামী স্ত্রী দুজনে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গত কয়েক মাস ধরে এনজিও সংস্থার কর্মকর্তারা হারুনের উপর চাপ সৃষ্টি করে। অনেক সময় এনজিওর কর্মকর্তাদের ভয়ে হারুনের পরিবার প্রতিবেশীদের বাড়িতে লুকিয়ে থাকতো। তিনি বলেন, গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে চকরিয়া থানা পুলিশ টিম ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছেন।

চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার এসআই মুফিজুর রহমানক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে গতকাল দুপুরে নিহতের মরদেহ বাড়ি থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত হারুনর রশিদের স্ত্রী কাউছার জান্নাত স্বামীর মরদেহের পাশে বসে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি স্বামীর এই পরিণতির জন্য এনজিও সংস্থার কর্মকর্তাদের চাপাচাপি ও ভয়ভীতিকে দায়ী করেছেন।