নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়ায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় একটি লাঠিয়াল চক্র। বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটার দিকে ১০/১৫ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালিয়ে বসতভিটার শতাধিক ছোটবড় রকমারি গাছ কেটে দেড় করে দিয়েছেন। এসময় বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুঁড়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের জিন্মি করে বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে ৯৯৯ ফোন কলে আক্রান্ত পরিবারের অভিযোগ পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গতকাল পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কাহারিয়াঘোনা এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি আবদু ছবুরের বসতবাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আক্রান্ত পরিবারের গৃহকর্তা মুক্তিযোদ্ধা হাজি আবদু ছবুর বলেন, চকরিয়া পৌরসভার কাহারিয়াঘোনা মৌজার বিএস ৬৩৫ নং খতিয়ানের বিএস ২৫৯৯, ২৬০০, ২৬০১ দাগের ১৬ দশমিক ৬৭ শতক জায়গা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। উলেখিত জায়গায় তিনি ছাড়াও ভাইয়ের পরিবার সদস্যরা বসতঘর নির্মাণ করে যুগের পর যুগ ধরে বৈধভাবে ভোগদখলে আছি।
হাজি আবদু ছবুরের অভিযোগ, নিজেদের বাড়িঘরে পরিবার নিয়ে শান্তিপুর্ণভাবে বসবাস করছি। আমাদের জায়গা নিয়ে কারো সঙ্গে কোন বিরোধও নেই। কিন্তু কয়েকমাস আগে প্রতিবেশী কামাল উদ্দিনের পরিবার সদস্যরা গত ১৫ অক্টোবর সকালে জোরপূর্বক আমার বাড়িভিটায় ঢুকে স্থাপনা নির্মাণ করতে চেষ্টা করে। ওইসময় আমার পরিবার সদস্যরা বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের লোকজন হামলা চালায় আমার বসতবাড়িতে।
এ ঘটনায় আমি জড়িতদের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার জমা দিই। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী। পরে কামাল উদ্দিনের পরিবার ঘটনাটি সমাধানের জন্য চকরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হাজী আবু মো বশিরুল আলমের দ্বারস্থ হন। এরপর মুক্তিযোদ্ধা হাজি বশিরুল আলম দুইপক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন।
হাজি আবদু ছবুর দাবি করেন, বৃহস্পতিবার হাজি বশিরুল আলম বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিরোধীয় জায়গা পরিমাপের মাধ্যমে দুইপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে আসেন। এসময় পরিমাপে কামাল উদ্দিনের পরিবারের দখলে আমাদের জায়গা থাকার বিষয়টি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন কামাল উদ্দিনের লোকজন। একপর্যায়ে তারা জায়গা দখল ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উপস্থিত সবার সামনে আমার বসতভিটায় ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এসময় বসতভিটার শতাধিক ছোটবড় রকমারি গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা হাজি আবদু ছবুর অভিযোগ করে বলেন, হামলার সময় তাঁরা বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুঁড়ে আমার পরিবারের সদস্যদের জিন্মি করে বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। পরে ৯৯৯ ফোন কলে আমরা অভিযোগ জানালে চকরিয়া থানার এএসআই গৌতম ভৌমিক এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধা হাজি আবদু ছবুর দাবি করেন, প্রতিপক্ষ কামাল উদ্দিনের স্ত্রী রাহেলা বেগমের সঙ্গে আবু জুনাইদ টিপু, বেলাল উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, রায়হান উদ্দিনসহ ১০/১৫ জনের একটি চক্র গতকাল আমার বসতবাড়িতে হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব দেয়।
মুক্তিযোদ্ধা হাজি আবদু ছবুরের ভাইয়ের স্ত্রী কক্সবাজার জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রেহেনা খানম রাহু বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বাড়িভিটার জায়গা জবরদখলের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দুইদফা হামলা চালিয়েছে। তারা বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে শতাধিক গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। এসময় বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা এইধরণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ চাই। ##
