হ্নীলা বাজারে নিয়ন্ত্রণহীন দ্রব্যমূল্যে মানুষের নাভিশ্বাস : মনিটরিং জরুরী

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

হেলাল উদ্দিন : হ্নীলা বাজারে এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট রমজান মাসকে পুঁজি করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। রোজা শুরুর আগেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে সরকারের আশ্বাসে ক্রেতারা স্বস্তিতে থাকলেও দাম বৃদ্ধির প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষ আদৌ রক্ষা পায়নি। প্রশাসনের বাজার মনিটরিং ও দোকানে মূল্য তালিকা না থাকায় হ্নীলা বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের পরিবর্তে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে বলে ভূক্তভোগী মহল থেকে অভিযোগ উঠছে।
বাজার পরির্দশন করে দেখা যায়,প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে চলতি রমজান মাসে সাধারণ ক্রেতারা এই বিশেষ সিন্ডিকেটের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্মবিত্ত পরিবারসহ দিন-মজুরেরা চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। সবজির পর্যাপ্ত মজুদ সত্বেও লাগামহীন দাম বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলে সাধারণ মানুষ ধারণা করছে। এমনিতেই হ্নীলা বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা নেই।
৭মে হ্নীলার মাছ তরকারী এবং মুদির দোকান ঘুরে দেখা যায়, আলু, পেয়াজ, করলা, কাঁচা মরিচ, টমেটো ও শসার দাম প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা। মাছের অভাব থাকায় মাছের বাজার যেন আগুনের খনি আর ফার্ম মুরগীর দামও আগের চেয়ে ১৫-২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন গরুর মাংস ৫শ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও তা না মেনে ৬শ থেকে ৭শ টাকায় বিক্রি করছে মাংস ব্যবসায়ীরা।
চাহিদার কথা বিবেচনা করে বাজারে কাঁচা মরিচ ও শষার দাম বেশী বেড়েছে। প্রতি কেজি কাচা মরিচ এখন বিক্রি করছে ৮০ টাকা থেকে ১শ টাকা আর শষা ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০,করলা ৮০,পটাল ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০, ঝিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০, ঢেড়ঁস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ ও সবজি কলা প্রতি পিস ১৫ থেকে ২০ টাকা, কোরাল মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭শ থেকে ৭৫০ টাকা, সুরমা বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকা, রূপচাঁদা জাত ও আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬শ থেকে ৮শ টাকা, পোয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা, ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৭শ থেকে ১হাজার টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১৮০থেকে ২৮০ টাকা, রুই মাছ প্রতি কেজি সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকা, কাতলা ২৯০থেকে সাড়ে ৩শ টাকা, পাঙ্গাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২শ টাকা।
বাজারের মাছ বিক্রেতারা জানান,সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কম। তাই বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে এসব মাছ। তবে মিঠা পানির মাছ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
হ্নীলার সচেতন মহলের দাবী,মুনাফা অর্জনকে কেন্দ্র করেই মূলত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড আবর্তিত হয়। তবে মুনাফা অর্জনের নামে নীতিজ্ঞান বিবর্জিত কর্মকাণ্ড কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। অতি মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা যাতে অসৎ পন্থা অবলম্বন করতে না পারে,সেজন্য প্রশাসনের অভিযানের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী।
এই ব্যাপারে সাবেক সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি বাজার মনিটরিং না করায় মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা মূল্য তালিকা না ঝুলিয়ে সুযোগ বুঝে নিজেদের ইচ্ছেমত দাম হাঁকিয়ে পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করছে। তিনি বলেন, তাদের নির্ধারিত দামে পন্য কিনতে স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। হ্নীলা ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে গত সপ্তাহের চেয়ে বর্তমানে রমজান উপলক্ষে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। বেশী মূল্যের পাশাপাশি ভেজালে সয়লাব প্রতিদিনকার ইফতারসহ বিভিন্ন খাদ্য পণ্যে। তিনি জরুরী অভিযানের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং করার প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।