হুমায়ূন রশিদ / সাদ্দাম হোসাইন : টেকনাফের হ্নীলা,হোয়াইক্যংসহ প্রত্যন্ত এলাকায় স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক স্থানীয় জনসাধারণকে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় বন্ধ, সাধারণ রোহিঙ্গাদের বাহিরে চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞাসহ ১২দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ জনতার উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২রা অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় হ্নীলা বাসষ্টেশন চত্বরে হ্নীলা মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ, রঙ্গিখালী ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা, হ্নীলা শাহ মজিদিয়া আলিম মাদ্রাসা, হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়, হ্নীলা আল-ফালাহ একাডেমী, হ্নীলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, লেদা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক, স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে বিশাল মানববন্ধন ও গণসমাবেশ হ্নীলা ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি হাফেজ শাকের আহমদেও পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মফিজুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। হ্নীলা ইউনিয়নের অন্যতম সমন্বয়ক সায়েম সিকদারের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হ্নীলা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জহির আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হ্নীলা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর আল মাসুদ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হ্নীলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাহাদুর শাহ তপু, ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা সাইফুল ইসলাম, ক্যাম্প এলাকায় বসবাসরত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা সাইফুল ইসলাম, হ্নীলা আল-ফালাহ একাডেমীর উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ রফিক, হ্নীলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান, হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আব্দুস সালাম, হ্নীলা শাহ মজিদিয়া আলিম মাদ্রাসার বাংলা প্রভাষক নুরুল আমিন, হ্নীলা মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ ফেরদৌস, হ্নীলা ডিস্ট্রিবিউটর সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ রফিক,সাবেক মেম্বার আলী আহমদ, শিক্ষানুরাগী আবছার কামাল নোবেল, হ্নীলা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি নুরুল হোছাইন আজাদ, প্রবাসী দেলোয়ার হোছাইন মিল্কী, হ্নীলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্বাস উদ্দিন, সাবেক ইজারাদার ও ব্যবসায়ী নেতা জালাল উদ্দিন, হ্নীলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ নুরুল আজিম সোহেল এবং অপহরণের শিকার হয়ে নির্মম নির্যাতনের পর মুক্তিপণে ফিরে আসা আতিক প্রমুখ।
এতে উত্থাপিত (১) রোহিঙ্গা ও স্থানীয় ডাকাত নির্মূলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পাহাড়েযৌথ অভিযান পরিচালনা করা, (২) দ্রুত রোহিঙ্গা পূর্ণবাসন করা, (৩) রোহিঙ্গা ডাকাতদের সহায়তাকারী স্থানীয় দূর্বৃত্তদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, (৪) রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সততার সাথে আইন-শৃংখলা বাহিনীর টহল নিশ্চিত করা, (৫) ক্যাম্পে সিআইসি ও এপিবিএনের কার্য্যক্রমকে আরো গতিশীল করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা, (৬) বিভিন্ন ভাড়াবাসাসহ যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে নিয়ে আসার পদক্ষেপ গ্রহণ করা, (৭) রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা হতে বাহিরে বের হতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, (৮) নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, (৯) রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাহিরে এসে রোহিঙ্গা টমটম, অটোরিক্সা ও সিএনজি চালকদের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, (১০) রোহিঙ্গা নাগরিকদের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয়দের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা, (১১) ক্যাম্প ভিত্তিক এনজিওর চাকরীতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিতে হবে, (১২) টেকনাফের সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন রাখাসহ বিভিন্ন দাবী তুলে ধরে সরকারের উর্ধ্বতনমহলসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সুদৃষ্টি কামনা করেন বক্তারা। এসব কারণে আমরা একেবারে অসহায় ও মানবেতরভাবে দিনযাপন করছি।
অতিদ্রুত সময়ে এসব দাবী কার্যকর করে হ্নীলা তথা পুরো টেকনাফে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা না হলে আগামীতে আরো কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী হাতে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। ###
