টেকনাফ প্রতিনিধি : টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকায় প্রায় এক লাখ ইয়াবা ছিনতাই নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা। গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে নাফ নদী পার হয়ে স্থানীয়দের যোগসাজসে একদল রোহিঙ্গা ওইসব ইয়াবা সমূহ নিয়ে এপারে ঢুকার সময় এ ঘটনা ঘটায় ইয়াবা ছিনতাইকারী সিন্ডিকেট। পরে উভয় গ্রæপের গভীর যোগাযোগের কারণে ইয়াবাগুলো ভাগবাটোয়ারা হয়েছে বলে স্ব স্ব গ্রæপের লোকজন এক পর্যায়ে স্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে মাদক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় তৎপরতার মধ্যেও ইয়াবা পাচার ও ছিনতাইয়ের জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধ ও ইয়াবা গ্রæপের মধ্যে গুলাগুলিতে বেশ ক’জন নিহত হলেও এসব বিষয়ে আমলে নিচ্ছেন না ইয়াবা ব্যাপারীরা। এরই প্রেক্ষিতে স্থানীয় আলী আকবরের ছেলে মোহাম্মদ আলমের যোগসাজসে পালিয়ে আসা বালুখালী ক্যাম্পের একদল রোহিঙ্গার মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ইয়াবা নিয়ে এপারে ঢুকলে স্থানীয় অপর একটি দল ওইসব ইয়াবা ছিনতাই করে।
মোঃ আলম মুঠোফোনে জানান, বালুখালী ক্যাম্পের একদল রোহিঙ্গা ৯ কাট ইয়াবা নিয়ে এপারে ঢুকে। এ সময় জাফর আলী ছেলে মমতাজ, কোরবান আলীর ছেলে নুরুল কবির, আবদুর রহমানের ছেলে নুর হোছন, ফজল করিমের ছেলে ধলবদু সহ আরো কয়েকজন মিলে ওই সব ইয়াবা জোরপূর্বক ছিনতাই করে। পরে মোঃ আলম মমতাজের সাথে গভীর যোগাযোগের কারণে চার কাট ইয়াবা ফেরত দেয়া হয়। এসব ইয়াবা রোহিঙ্গাদের ফেরত দেয়া হলে তারা ক্যাম্পের দিকে চলে যায় বলে জানান মোঃ আলম। এ ব্যাপারে মমতাজের কাছে জানতে চাইলে দুই কাট নীচের মাল কয়েকজন মিলে ভাগবাটোয়ারা করেছে বলে জানান তিনি। এ দু গ্রুপের ইয়াবা ছিনতাই ও ইয়াবা পাচারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উঠকন্ঠা বিরাজ করছে। ছিনতাই ও পাচারের এ সিন্ডিকেটে বেশ ক’জন বিভিন্ন মামলার আসামী রয়েছে। পাশাপাশি এ সিন্ডিকেটের অন্যতম গডফাদার স্থানীয় মৃত নাজির হোসেনের ছেলে শফিকুর রহমান সম্প্রতি বাহারছড়ায় দু গ্রুপের গুলাগুলিতে নিহত হাবিবের মামলার আসামী। তার একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। এলাকাবাসী জানান, লম্বাবিল চিত্তবাবুর কাচারী নামক স্থান হতে নিয়মিত চোরাচালান অব্যাহত থাকে। এ ব্যাপারে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ এসআই দীপাংকর রায় জানিয়েছেন বিষয়টি তিনি লোকমূখে শুনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
