সৌদিয়া কেন্দ্রিক ইয়াবা পাচারকারী চক্রের হোতা লেদার মোবারক ধরা-ছোঁয়ার বাইরে!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : হ্নীলাস্থ লেদার খেটে খাওয়া সাধারণ একজন মানুষ মোঃ মোবারক। ইয়াবার ছোঁয়ায় রং বদলানোর পর বদলে যায় তার রুচি। গ্রামের কুঁড়েঘর ছেড়ে শহরে গড়ে তোলেন আস্তানা। সেখানে রোহিঙ্গা নারীকে ২য় বিয়ের পর মাদক বিরোধী প্রশাসনিক অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় কৌশল পরিবর্তন করে এবং মানব দেহের ভেতরে করে অভিনব কায়দায় সৌদিয়া কেন্দ্রিক ইয়াবা পাচার চালিয়ে আসছে। গত দেড় মাসের মধ্যে এক চালান দিয়ে চিকিৎসার নামে দেশে ফিরে এসে আবারো মাদক বহনকারী লোকজন সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার হ্নীলা পূর্ব লেদার মৃত আবুল হোছনের পুত্র মোঃ মোবারক ৪ বোন এবং ৩ ভাইয়ের মধ্যে ২য় ছেলে। এক সময় নাফনদীতে ঠেলা জাল ঠেলার অজুহাতে স্থানীয় ইয়াবা কারবারী জনৈক আব্দুর রহমানের ইয়াবা চালান খালাসে সহায়তা করে কিছু টাকা পেত। আব্দুর রহমান আটক হয়ে কারাগারে থাকার সুবাদে এই মোবারকই সরাসরি ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়ে। ইয়াবা পার্টনার রোহিঙ্গা মোঃ আলম ইয়াবার একটি মাদকের বড় চালান এনে মোবারকের হাতে জমা রাখার কিছুদিনের পর রোহিঙ্গা মোঃ আলম বন্দুক যুদ্ধে নিহত হলে মোবারকের ভাগ্য খুলে যায়। তখন এই মোবারক আলাদীনের চেরাগ পাওয়ার মতো আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। তখন লেদা ছেড়ে কক্সবাজারে গিয়ে জমি কিনে বসতি গড়ে তুলে। লেদা হতে ভাড়া করা নারী-পুরুষ খেয়ে অভিনব কৌশলে ইয়াবার চালান মোবারকের নিকট পৌঁছে দেন। তখন মোবারক এসব ইয়াবা শহরের বিভিন্ন জনের নিকট পাচার করে থাকে।
সরকারী ঘোষণার পর সারা বাংলাদেশে প্রশাসন মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার করায় কৌশল পরিবর্তন করে গুটিয়ে নেয় মাদক কারবার। সৌদিয়ায় পবিত্র ওমরা পালনের অজুহাতে গত ২ মাস পূর্বে ইয়াবা খাইয়ে ৭/৮ জনের একটি বহর নিয়ে সৌদিয়ায় নিরাপদে চলে যায়। সেখানে ইয়াবার চালান হস্তান্তর করে মোটাংকের নগদ টাকা নিয়ে চিকিৎসার অজুহাতে বাংলাদেশে ফিরে আসে। এখন শ^াশুড় বাড়ি শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন স্থান হতে খেয়ে ইয়াবা বহনকারী সংগ্রহ করে আরো একটি চালান নেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে।
এই ব্যাপারে মোবারকের নিকট জানতে চাইলে বলেন,আমি আগে ইয়াবা কারবার করেছিলাম। গত দুই আড়াই মাস আগে সৌদিয়া গিয়েছিলাম। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য ফিরে আসি। আবারো চলে যাব। ইয়াবার চালান নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে এখন এই কাজ করিনা আর কড়াকড়ির কারণে ইয়াবা নেওয়া সম্ভব না।
এলাকার সচেতন মহল এখনো কৌশল পরিবর্তন করে ইয়াবা চোরাচালানে লিপ্ত লেদার ইয়াবা মোবারককে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছে। ###