????????????????????????????????????
ডেস্ক নিউজ :
অবিরাম ভারী বর্ষণে বান্দরবানে প্রধান সড়কের কয়েকটি স্থানে সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে লোকজনদের বসতি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্র অথবা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসন, পৌরসভার এবং ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলায় খোলা ১২৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে প্রায় সাড়ে ছয়শ দুর্গত মানুষ। এদিকে বৈরি আবাহাওয়ায় থানচিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জিননা পাড়া এলাকায় আটকা পড়েছে ১৬ জন পর্যটক।
প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানায়, গত শনিবার থেকে বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় অবিরাম ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। তবে আগের চেয়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার সকাল নয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় বান্দরবানে ১১৬ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের চব্বিশ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছিল ১৮৫ মিলি মিটার জানিয়েছেন বান্দরবানের মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম।
এদিকে অব্যাহত বর্ষণে বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কের বাজালিয়া, বরদুয়ারা’সহ তিনটি পয়েন্টে প্রধান সড়কটি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, ঢাকা, কক্সবাজার’সহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বান্দরবান শহর ছেড়ে যায়নি কোনো যাত্রীবাহী বাস। তবে পানির উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কিছুকিছু যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
বাজালিয়ার বাসিন্দার মোহাম্মদ নাজিম ও আব্দুল খালেক বলেন, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কটি বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটি যেন এ অঞ্চলের মানুষের নিয়তি, দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই। সড়কটি উঁচু করার জন্য কয়েকদফায় উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি আজও।
জেলা পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শুভ্রত দাশ ঝুন্টু বলেন, প্রধান সড়কের বাজালিয়া এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কেরানীহাট সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। কোনো গাড়িই স্টেশন ছেড়ে যায়নি।
অন্যদিকে পাহাড় ধসের কারণে রুমা-থানছি-রোয়াংছড়ি অভ্যন্তরীণ সড়কেও যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো: দাউদুল ইসলাম বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলার সাতটি উপজেলার তেত্রিশটি ইউনিয়নে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাইক্লোন সেন্টারে ১২৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। খোলা হয়েছে অফিসে কন্ট্রোল রুম।
ইতিমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিয়েছে বন্যা এবং পাহাড় ধসের ঝুকিতে থাকায় সাড়ে ছয় শতাধিকের মত দূর্গত লোকজন। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। পাহাড় ধসের ঝুকিতে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্র অথবা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
