বার্তা পরিবেশক : টেকনাফের সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মী জসিম উদ্দিন টিপু ষড়যন্ত্রমূলক এবং মিথ্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন অবিলম্বে টিপুর মুক্তি দাবী করে বিবৃতি দিয়েছে।
গত ২রা মার্চ উপজেলার হ্নীলা রঙ্গিখালীর দুদু মিয়ার পুত্র জাকের হোছাইন কর্তৃক টেকনাফ মডেল থানায় দায়েরকৃত একটি মারামারীর মামলায় গত ৬মার্চ সকালে কক্সবাজার আদালতে আত্নসর্ম্পণ করে জামিন নিতে যাওয়ার পথে আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়। তাকে ঐদিন রাতে টেকনাফ মডেল থানায় সোর্পদ করা হলে ৭মার্চ সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতের বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে আদালতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। একটি ষড়যন্ত্রমূলক ও সাজানো মিথ্যা মামলায় সাংবাদিক এবং উন্নয়ন কর্মী জসিম উদ্দিন টিপু কারাবরণের ঘটনায় টেকনাফে কর্মরত সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগছন ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
গত ৪ঠা মার্চ বিকাল ৫টায় এই ধরনের মিথ্যা ও সাজানো মামলা থেকে সাংবাদিক জসিম উদ্দিন টিপুকে অব্যাহতি দেওয়ার আহবান জানিয়ে টেকনাফ প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম টেকনাফ উপজেলা শাখা, টেকনাফ সাংবাদিক ফোরাম এবং ক্রাইম রিপোর্টার সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন পালন করেন। টেকনাফ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান আহবায়ক আলহাজ¦ মোহাম্মদ ছৈয়দ হোছাইন, সাবেক সভাপতি জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, সহসভাপতি আশেক উল্লাহ ফারুকী, আলহাজ¦ মুহাম্মদ তাহের নঈম, টেকনাফ প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্মসম্পাদক নুরুল হক (দৈনিক সৈকত), সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ (দৈনিক হিমছড়ি), কাউন্সিলন আবদুল্লাহ্ মনির (চট্রগ্রাম মঞ্চ), অর্থ সম্পাদক আবদুর রহমান (সমকাল), দফতর সম্পাদক কায়সার পারভেজ চৌধুরী (দৈনিক চকোরী), বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম টেকনাফ উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আরাফাত সানি, টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামের কার্যকরী সভাপতি মুহাম্মদ জুবাইর (গণসংযোগ), সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম (রূপসী গ্রাম), নুর হাকিম আনোয়ার (আমার সংবাদ), ক্রাইম রিপোটার্স সোসাইটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ভূলু, সাধারণ সম্পাদক জিয়াবুল হক (সুপ্রভাত বাংলাদেশের ), সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদ উল্লাহ্ (আনন্দ টিভি), উপজেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মাহফুজুর রহমান, জাকারিয়া অলফাজ (কালেরকন্ঠ), সাদ্দাম হোছাইন (আজকের কক্সবাজার) ফরিদুল আলম (দ্য ডেইলি নিউজ মেইল, ঢাকা প্রতিদিন), মো: শাহিন (সি প্লাস), সামী জাবেদ (দৈনিক ঢাকা), শেখ রাসেল (সময়ের আলো), আখতার হোসেন হিরু (আমার সময়), সাইফ উদ্দিন আল মোবারক (ঢাকা টাইমস), জামাল উদ্দন মেম্বার (ইনানী), মিজানুর রহমান (অধিকার), সদস্য ওবাইদুর রহমান নয়ন (কাল বেলা), জাহেদ হোসেন (কক্সবাজার বার্তা), ইব্রাহীম মাহমূদ (দৈনন্দিন), সাইফুল ইসলাম (বুলেটিন), মোস্তাক আহমদ (পত্রিকা একাত্তর), শাহ্ আলম বিপ্লব (আমাদের কক্সবাজার), মো: কেফায়ত উল্লাহ্ (সমাচার), আবদুল্লাহ্ সম্রাট (নব চেতনা)সহ কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ কারান্তরীণ সাংবাদিক ও বেসরকারী আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সঙস্থায় কর্মরত সাংবাদিক জসিম উদ্দিন টিপুর মুক্তি দাবী করেছেন।
বিবৃতিদাতারা বলেন,টেকনাফ প্রেসক্লাবের সদস্য,উন্নয়ন কর্মী ও শিক্ষানুরাগী জসিম উদ্দিন টিপুকে বিশেষ মহলের ইন্ধনে এলাকার স্বীকৃত দূবৃর্ত্ত চক্র কর্তৃক সাজানো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। সে বর্তমানে কারাগারে অমানবিক দিন-যাপন করছে। তাকে দ্রæত জামিনে মুক্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উল্লেখ্য, গত ২রা মার্চ রাতে উপজেলার হ্নীলা রঙ্গিখালীর দুদু মিয়ার পুত্র জাকের হোছাইন (২৩) বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার নং-১০/০২-০৩-২০২৩ইং। উক্ত মামলায় নামীয় ১১জন এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪জনকে আসামী করা হয়েছে। এতে সাংবাদিক জসিম উদ্দিন টিপুকে ষড়যন্ত্রমূলক, উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং হয়রানির লক্ষ্যে মিথ্যা আসামী করা হয়েছে। ঘটনার সময় সাংবাদিক জসিম উদ্দিন টিপু কর্মরত সংস্থায় দায়িত্বরত ছিল। সাংবাদিক জসিম উদ্দিন টিপু একাধারে টেকনাফ প্রেসক্লাবের সদস্য,টেকনাফ টাইমস ডটকমের সম্পাদক, টেকনাফ সাংবাদিক সমিতির যুগ্নসম্পাদক, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য,বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার কর্মী, টেকনাফের সর্বোচ্চ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রঙ্গিখালী দারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছে। জসিম উদ্দিন টিপু দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার সাংবাদিকতায় কর্মরত থেকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মানবপাচার, ডাকাতি, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়সহ মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে তুখোড় লেখনির মাধ্যমে আলোচিত হয়। এতে উক্ত মহল ক্ষুদ্ধ হয়ে এই মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সাহসী কলম সৈনিককে হয়রানির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষাভাবে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রত্যাহারের জন্য টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ফেব্রুয়ারী বিকালের দিকে অগ্নিকান্ডে হ্নীলা রঙ্গিখালী স্কুল পাড়ার ছিদ্দিক আহমদ ফকির, মাওলানা শফিকুল ইসলাম জিহাদী, দিন-মজুর রশিদ আহমদ, মোহাম্মদ ইউনুছ ও মিরজানা বেগমের ঘর পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের অনুদান প্রদানের পাশাপাশি ঘর সহায়তার জন্য ইউএনও এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করার পরামর্শ দেন। পরদিন ১লা মার্চ সকালে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ইউনুছের স্ত্রী জাহেদা বেগম অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ঘরের খোলা আকাশে দাড়িয়ে ইউএনও এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করার জন্য আইডি কার্ড নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় স্থানীয় দুদু মিয়ার পুত্র সলিম এসে আইডি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। জাহেদা বিষয়টি স্থানীয় মেম্বারকে সালিশ দিলেও মেম্বার আইডি কার্ড উদ্ধার করতে পারেনি। এতে জাহেদা নিরুপায় হয়ে স্থানীয় গুরা মিয়ার পুত্র বাঘাইশ্যাকে ফোন করে আইডি কার্ড উদ্ধার করে দিতে আহবান জানায়। এই খবর পেয়ে ঊলুচামরী কোনার পাড়ার মরহুম হাজী রুহুল আমিনের পুত্র আনোয়ার প্রকাশ লেড়াইয়া, গুরা মিয়ার পুত্র বাগাইশ্যাসহ ৪/৫জন লোক ঘটনাস্থলে যায়। এরপর দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি, সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় জনৈক হামিদ উল্লাহর স্ত্রী ছমুদা বেগম গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত হয়। এসময় সাংবাদিক জসিম উদ্দিন টিপু কর্মরত সংস্থার অধীনে উখিয়ায় কর্মরত থাকলেও একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আহত মহিলার স্বীকারোক্তি আদায় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির সুযোগ নেয়। টেকনাফে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই মিথ্যা মামলায় তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। ###
