টেকনাফ টুডে ডেস্ক : অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং এর আশেপাশের আঙ্গিনায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আগামী বুধবার শহীদ মিনারে মহান একুশে উদযাপন উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে সম্মান জানাবে। কিন্তু যারা এই সৌন্দর্যের কাজ করছেন তারা বিনা পারিশ্রমিকে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্যই করছেন বলে জানান।
সোমবার বেলা তিনটায় শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনারের নিচের অংশে ধোয়া-মোছা শেষে নতুন করে লাল রং করা হচ্ছে। শহীদ মিনারের মূল বেদীতে আলপনার কাজ করছে। অনেক জায়গায় চুন লাগানো হচ্ছে। এ ছাড়াও শহীদ মিনারের দক্ষিণ পাশের দেয়ালে ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা’ মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ছবি আঁকা হচ্ছে। জগন্নাথ হলের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের, জীবনান্দ দাশ এর মতো বিখ্যাত কবি সাহিত্যিকের বিভিন্ন বাণী লেখা হয়েছে।
শহীদ মিনার এলাকায় উল্লেখযোগ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। রয়েছে বিভিন্ন নিরাপত্তার টাওয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোতাহার হোসেন ভবনের সামনে পুলিশ এবং র্যাবের কন্ট্রোল টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে রয়েছে ‘প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র’।
আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এই আঁকা-আঁকির কাজ শুরু হয়। প্রথম দফায় ধোয়া-মোছার কাজ হয়েছে। পরের দিন বিভিন্ন দেয়াল অংকন করা হয়েছে। রাত আটটা পর্যন্ত চলবে শহীদ মিনার অংশে আলপনা আঁকা কাজ। মঙ্গলবার দোয়েল চত্বর থেকে শহীদ মিনারের সামনে পর্যন্ত রাস্তায় বিভিন্ন আলপনা আঁকা হবে বলে জানা যায়।
আলপনার কাজে ব্যস্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী ইক্ষু জানান, আমাদের ভাষার প্রতি ভালোবাসার জন্যই এই কাজটা করি। জানতে চাইলে শহীদ মিনারে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ড্রয়িং এন্ড প্রিন্টিং এর সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার তৌফিক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমাদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায় চলছে। এই কাজটা আমরা বলতে পারেন বিনা পারিশ্রমিকে করছি। এটা আবেগের জায়গা। ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মানের জন্যই বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করি। প্রতিবছরই এভাবেই আমরা কাজ করে যাই। শুধু আয়োজকদের থেকে রং এর টাকা নেই। তিনি আরো বলেন, এই কাজের জন্য আমরা প্রায় ২০০ শিক্ষক-ছাত্র কাজ করছি।
এই শিক্ষকের সাথে উপস্থিত চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের প্রভাষক সুমন কুমার পরিবর্তন ডট কমকে বলেন, যখন আমরা ছাত্র ছিলাম, তখনও এখানে এসে বিভিন্ন কাজ করেছি। এখন শিক্ষক হয়েও এখানে আসি। এটা একটা ভালো লাগার জায়গা।
অমর একুশে উদযাপনের সদস্য সচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রাব্বানী পরিবর্তন ডট কমকে বলেন, আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা এই আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
