কায়সার হামিদ মানিক : উখিয়ার-টেকনাফে ৩০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সেবার নামে কর্মরত দেশী বিদেশী এনজিও সংস্থাগুলোর বৈশ্যমতামূলক আচরন দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ না দেওয়ায় নির্বিচারে স্থানীয় কর্মজীবি ছাটাই করাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে উখিয়ার বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ ফুসে উঠেছে। এ নিয়ে যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টির পূর্বেই সৃষ্ট মতবিরোধ সমাধানে সংশি¬ষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঠিকাদারী সংস্থা ও ক্ষতিগ্রস্থ চাকুরীজীবি স্থানীয়রা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
উখিয়ার ঠিকাদারী সংস্থা এনআর এন্টারপ্রাইজ স্বত্তাধীকারী অধ্যাপক নুরুল আমিন সিকদার ভূট্টো অভিযোগ করে জানান পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রধান মন্ত্রী বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মানবতার মা হিসেবে আন্তজাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। এ সময় স্থানীয় ঠিকাদাররা ব্যক্তিগত অর্থ বিনিয়োগ করে রাত দিন পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় ও সেবা প্রদানে নিরন্তর ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন আপদকালীন সময় কেটেঁ যাওয়ার পর রোহিঙ্গাদের যখন থাকা, খাওয়া ও স্বাস্থ্য সেবার অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তখন এনজিওরা স্থানীয় ঠিকাদারদের প্রতি বিমাতাসূলভ আচরন শুরু করে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস.এস এন্টারপাইজের স্বত্তাধীকারী ফরিদুল আলম কন্ট্রাক্ট জানান এসব এন.জি.ওরা স্থানীয় ঠিকাদারদের অতি সূ-কৌশলে বাধ দিয়ে তাদের নিকট আত্বীয় স্বজনদের কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা প্রশাসনের নিদের্শ উপেক্ষা করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উন্নয়নের কাজ পাইয়ে দিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করায় স্থানীয় ঠিকাদারদের যাবতীয় কার্যক্রম হাত ছাড়া হয়ে গেছে।
মেসার্স মফিজ কন্ট্রাকশনের মালিক মফিজ মিয়া অভিযোগ করে জানান রোহিঙ্গাদের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয়দের কলেজ পড়–য়া বেকার ছেলেমেয়েদের ক্যা¤েপর চাকুরীর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রশাসনের চাপ থাকলেও ঐ সব এনজিওরা বিভিন্ন কুট-কৌশলের আশ্রয় নিয়ে তাদের স্বজনদের চাকুরী দেওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রজেক্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার নাম ভাঙ্গিয়ে নির্বিচারে ছাঁটাই করছে। এ ব্যাপারে চাকুরী চ্যূত ছেলেমেয়েরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে। এমনকি তারা কক্সবাজার টেকনাফ সড়কে কোট বাজারে মানব বন্ধন ও পথ সভা করে ঐসব এনজিওদের বিচার দাবী করেছে। এ ব্যাপারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহŸবায়ক অধক্ষ্য হামিদুল হক চৌধুরী জানান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কক্সবাজার জেলা বাহিরে ঠিকাদারদের কাজ করার কোন অধিকার নেই। তাছাড়া স্থানীয় বেকার ছেলেমেয়েদের চাকুরী নিশ্চিত না করে বহিরাগতদের চাকুরীতে নিয়োগ দিলে সংশ্লিষ্ট এনজিওদের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ চাকুরীচূত্য ছেলেমেয়েরা এর সমুচিত জবাব দেবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান স্থানীয় ঠিকাদারদের ক্যাম্পের উন্নয়ন কাজ দেওয়া ও বেকার ছেলেমেয়েদের বার বার তাগিত দেওয়া স্বত্তেও বিভিন্ন অজুহাতে তা পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন বিষয়টি কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।
