হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফ সীমান্তের পৌর এলাকা ও সাবরাং ইউপির বিপরীতে প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের সেনা বাহিনীর সীমান্ত চৌকিতে বিদ্রোহী গ্রুপ আরকান আর্মির হামলায় টিকতে না পেরে প্রাণ রক্ষার্থে স্বশস্ত্র অবস্থায় অনুপ্রবেশ করে বিজিবির নিকট আত্নসমর্পণের পর নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪মে রাতের প্রথম প্রহরের দিকে টেকনাফ পৌর এলাকা ও সাবরাংয়ের বিপরীতে মন্ডু কাউয়ারবিলে লাপুকং অর্থাৎ রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ন কেন্দ্র সেনা ঘাঁটিতে বিদ্রোহী গ্রুপ আরকান আর্মির স্বশস্ত্র সদস্যরা হামলা চালায়। এসময় সেনা চৌকিতে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা প্রাণ রক্ষার্থে তাদের হেফাজতে থাকা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। অনেকে নিরুপায় হয়ে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউপির আচারবনিয়া হতে ১৪জন,টেকনাফ সদরের নাজির পাড়া হতে ২২জন এবং ২য় দফায় নাজির পাড়া হতে আরো ৪জনসহ মোট ৪০জনের বিজিপি সদস্য অনুপ্রবেশ করে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে। পরে তারা বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি সদস্যদের নিকট অস্ত্র জমা দিয়ে আত্নসমর্পণ করে। এদের মধ্যে ৩৬জন বিজিপি সদস্য হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারের একাধিক নির্ভরযোগ্য সংস্থার লোকজন বিজিপি সদস্য অনুপ্রবেশের বিষয়টি স্বীকার করলেও টেকনাফ সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোন ধরনের ব্রিফিং বা বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মায়ানমার উইংয়ের মহাপরিচালক মিয়া মোঃ মাইনুল কবির এসব তথ্য নিশ্চিত করলেও তাদের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করেননি।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আশ্রয় নেওয়া বিজিপি সদস্যদের পরিচয় শনাক্তের কার্য্যক্রম চলছে। তবে স্থানীয় সুত্রের দাবী মতে আরো ২৫/৩০জনের বিজিপি সদস্যের দল বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে আশ্রয় নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
এর আগে দুই দফায় পালিয়ে আসা বিজিপি ও সেনা বাহিনীর ৬১৮জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৫এপ্রিল বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ২৮৮জন মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি ও সেনা সদস্যকে ফেরত পাঠায় বাংলাদেশ। এর আগে আশ্রয় নেয়া ৩৩০জন মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি, সেনা ও কাস্টমস কর্মকর্তাকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি স্বদেশে ফেরত পাঠায় বাংলাদেশ।
