হুমায়ূন রশিদ : মাদকাসক্ত ব্যক্তি দেশ ও জাতির জন্য বোঝা এবং ভয়ংকর। মাদকাসক্ত স্বামীর অব্যাহত নির্যাতনে ৩ ছেলে-মেয়ের সমন্বয়ে গড়া একটি সোনার সংসার ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেছে। ছেলে-মেয়েদের সোনালী ভবিষ্যত গড়তে মা কর্মজীবি হওয়ায় এখন অব্যাহত হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে বলে অভিযোগ আইন-প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৫ জুলাই টেকনাফের হোয়াইক্যং কুতুবদিয়া পাড়ার ছাবের আহমদের মেয়ে লুৎফার সাথে মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটাস্থ দক্ষিণ ঘোনার পাড়ার আব্দুস সাত্তারের পুত্র মোঃ নুরুল করিম (২৮) এর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আর্থিক সংকট থাকলেও ১৪ বছরের সুন্দর সংসার জীবনে মাসুদ করিম (১৩), আসাদ করিম (১০) ও আনিসা করিম মিনহা (৪) এর আগমন ঘটে। সংসারে স্বচ্ছতা ফেরাতে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় আত্নীয়ের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে স্ত্রী গার্মেন্টসে চাকুরী নেয়। ইতিমধ্যে স্বামী অসৎ বন্ধু-বান্ধবের পাল্টায় পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। মাদক সেবন করে বাড়ি এসে স্ত্রী-সন্তানদের বেদম মারধর করে এবং নির্যাতন চালায়। স্বামী সোনার চাঁদের মতো ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যত চিন্তা করে সৎপথে ফিরে আসবেন বলে স্ত্রী চরম ধৈর্য্য ধারণ করে থাকে। কিন্তু এই মদ্যপ স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বাপের বাড়ি চলে আসেন।
এই বিষয়ে স্থানীয় মেম্বারের নিকট কয়েক বার সালিশ হলেও মাদকাসক্ত স্বামী সংশোধিত না হওয়ায় চট্টগ্রাম কর্মস্থলে গিয়ে গত ১৩/০৮/২০১৮ ইং চট্টগ্রাম সদরের নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে গিয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে ১৯৬১সনের মুসলিম পারিবারিক আইনের (৭)১ ধারামতে তালাকনামা প্রদান করেন। সংসার ভাঙ্গনের পর লুৎফা ২ছেলে ও ১মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসে। তাদের মানুষ করার জন্য স্থানীয় একটি এনজিও সংস্থায় চাকরী নেয়। এরপর ছেলে-মেয়ের মানুষ করার জন্য কাঞ্জর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে মাসুদ করিম (১৩), প্রাইমারীতে আসাদ করিম (১০) ও পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসায় আনিসা করিম মিনহা (৪) কে ভর্তি করে দেন। ডিভোর্স প্রাপ্ত স্বামী এলাকায় এসে স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে অপপ্রচার চালায়। উক্ত স্বামীর অপপ্রচারে নিরুপায় হয়ে ঐ চাকরী ছেড়ে দেন। তখন লুৎফা ভেঙ্গে পড়লেও ছেলে-মেয়েদের মানুষ করার সংকল্প থেকে এক বিন্দু পর্যন্ত সরে যায়নি।
সে ছেলে-মেয়েদের অবশ্যই মানুষ করার নতুন সংকল্পে নব উদ্যমে পুনরায় মনোবল নিয়ে রইক্ষ্যং পুঁটিবনিয়া ক্যাম্পে কোডেকে চাকরী নেয়। ডির্ভোস প্রাপ্ত স্বামী চাকরী হতে লুৎফাকে বের করে দেওয়ার জন্য উক্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করে। তালাকপ্রাপ্ত স্বামী নুরুল করিমের বিরুদ্ধে স্ত্রী এসব বখাটেপনা ও হুমকির অভিযোগ আনলে চলতি বছরের জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে উখিয়া থানা সেকেন্ড অফিসারের নিকট সালিশ বসে। উক্ত বৈঠকে নুরুল করিমকে বখাটেপনা বন্ধ করার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়। কিছুদিন শান্তি থাকার পর এখন শরীরে ছুরি নিয়ে চাকরীতে আসা যাওয়ার পথে লুৎফাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ করেন। ডিভোর্স প্রাপ্ত স্বামীর এই ধরনের বখাটেপনায় উক্ত ক্যাম্পের অপর চাকরীজীবিরা পর্যন্ত হতবাক হয়ে পড়েছে।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত স্বামী নুরুল করিমের মুঠোফোন (০১৮৬২-৫৮০৪৫০) বন্ধ থাকায় কোন ধরনের বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
৩ সন্তানকে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়া মা লুৎফা সাংবাদিকদের জানান, তার এই ধরনের অপপ্রচার আর অব্যাহত হুমকিতে আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমি এই ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টদের সহায়তা ও হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
