নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতায় আসার লোভে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি। কিন্তু সেই তৎপরতায় বার বার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিগত সময়ে রাষ্ট্রবিরোধী অসংখ্য কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকাসহ ভারতের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় তারেক রহমানের সম্পৃক্ততার জেরে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাকে। এছাড়া ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরিতে মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহীমের সঙ্গে তারেকের গোপন যোগাযোগও কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সুসম্পর্ক তৈরিতে বিএনপি নেতাদের ভারত সফর করান তারেক রহমান। যদিও তা বিশেষ কোনো কাজে আসেনি। তবুও হাল না ছেড়ে ফোনালাপের মাধ্যমে একাধিক বার ভারত সরকারের বর্তমান শীর্ষ নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ার চেষ্টা চালান তারেক। কিন্তু বিগত সময়ের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে অসন্তুষ্ট হয়ে তারেকের প্রতি বিরক্ত প্রকাশ করেছেন সরকার দলীয় নেতারা। তারেক রহমান কখনো প্রতিনিধি পাঠিয়ে, আবার কখনো ফোনালাপ করে এই সখ্যতা গড়ার চেষ্টা চালালেও তা বার বার ব্যর্থ হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ক্ষমতাসীন বিজেপির সাথে সম্পর্ক গড়ার শেষ চেষ্টা করেন তারেক রহমান। কিন্তু তাতেও কোনো বিশেষ লাভ হয়নি। সূত্র বলছে, ভারতকে খুশি করার চেষ্টা বরাবরের মতো এবারও ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সব দিক থেকে ব্যর্থ হয়ে ভারতকে ভরসা ভাবছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কারণ ইতোমধ্যেই, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, ইসরায়েল তারেককে বিশ্বাস করতে পারছে না। আর এই অবিশ্বাসের মূল কারণ, বিগত সময়ে তারেক রহমানের বিভিন্ন প্রতারণা।
এদিকে তারেকের নির্দেশে বিএনপি একটি অংশ বিগত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানা গেছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিতে দেশগুলো ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। এমন প্রেক্ষাপটে গোপনে পাকিস্তানের আইএসআইএ’র সাথে বিএনপির যোগাযোগ রাখার খবরে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তারেক রহমানকে রীতিমতো ধাপ্পাবাজ বলেই মত প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। ফলে নিজের কর্মফলেই ভারতের সাথে সখ্যতা গড়ার চেষ্টায় বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভারতের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও থিংকট্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে অতীতের ভারতবিরোধী মনোভাব থেকে বের হয়ে আসার নিশ্চয়তা দিলেও সে সফরে ভারতের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয় তারা।
