ব্যস্ত কামারেরা ; অপেক্ষা ক্রেতার

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৪ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : চলছে হাঁপর টানা, পুড়ছে কয়লা আর জ্বলছে লোহা। দগদগে আগুনে গরম লোহায় ওস্তাদ-সাগরেদের পিটুনিতে মুখর রাজধানীর কামারপট্টিগুলো।

লোহার টুনটুন শব্দ শোনা যাচ্ছে দূর থেকে। কোরবানির প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরি করে সাজিয়ে রেখেছেন কামারেরা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের উপকরণ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) রাতে রাজধানীর শনিরআখড়ায় কামারপাড়ায় ঘুরে কামারীদের ব্যস্ততা দেখা যায়। কেউ তৈরি লোহার জিনিসে তেল মালিশ করছেন। মাঝে মধ্যে ক্রেতা আসলে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। অর্ডারও নিচ্ছেন কারো কারো। কেউ দাম জিজ্ঞাসা করলে হাসিমুখে বলছেন।
kamar 2 TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি পিস চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা। যা গত বছর ছিল ৬০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। চাইনিজ কুড়াল পাওয়া যাচ্ছে ১০০০ থেকে ১৪০০ টাকায়। চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ১০০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় ছুরি ৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। ছুরি ধার করার স্টিল প্রতি পিচ ৯০ থেকে ১১০ টাকা। দা ২৫০ থেকে ১২০০ টাকা, বটি ৩০০ থেকে ২০০০ টাকা কাঁচি ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

শনিরআখড়ায় ১৬ বছর ধরে কামারীর কাজ করছেন শ্রীনাথ। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদের আর দুইদিন আছে। সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। মানুষ গরু কেনা শুরু করছে। এরপর আমাদের কাছে আসবেন’।

বেচাকেনা কম উল্লেখ করে শ্রীনাথ বলেন, ‘লোহা, ইস্পাতের দাম বাড়তি। কিন্তু আমরা তো দাম পাই না। সারা বছর দুজন কাজ করি। এখন কাজের চাপ বেশি তাই আরও ৬ জন অতিরিক্ত কাজ করছি। কিন্তু ক্রেতা তেমন দেখছি না। আগে মানুষের যা লাগতো তার চেয়ে বেশিও কিনতো। কিন্তু এখন যত কম কিনে মানুষ পারে। বেচাকেনা আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু খরচ বেড়েই চলছে।

ক্রেতা অহিদুল ইসলাম বলেন,‘জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে আর কিছু কেনা যায় না। আগে একটা চাপাতি ৮০০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম আজ তা নিলাম ১১০০ টাকা দিয়ে।