নাফ সিটি সেন্টারের দুতলায় ওসমানের বিশাল গামেন্টস কাপড়ের দোকান পরিচালনা করেন কর্মচারীরা
শামসু উদ্দিন, টেকনাফ : দেশব্যাপী আইন শৃংখলা বাহিনীর মাদক বিরোধী সাঁড়াশী অভিযান অব্যাহত থাকলেও বৈধ ব্যবসার আড়ালে থাকা কতিপয় ইয়াবা ও হুন্ডি ব্যবসায়ী এখনো অধরাই রয়ে গেছে । এদের মধ্যে টেকনাফ লামার বাজার ও গনি মার্কেট এলাকার হুন্ডি ওসমান প্রকাশ সাতকানিয়া ওসমান ও তার সিন্ডকেট উল্লেখযোগ্য।
সাতকানিয়া ওসমান নামে পরিচিত হলেও আসলে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ছোট বারদোনা গ্রামের মৃত কবির আহমদের ছেলে এই ওসমান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, একসময় টেকনাফ বাস স্টেশন এলাকার ফুটপাতের হকার থেকে উসমান মাত্র অল্প কয়েক বছরে শত কোটি টাকার মালিক বনে যান। ইয়াবা ও হুন্ডির বদৌলতে তাদের ব্যবসা ও সম্পদ এভাবে বেড়েছে যে, আলাদিনের চেরাগের রূপকথাকেও যেন হার মানায়।
ওসমান সিন্ডিকেটের সম্পদের মধ্যে রয়েছে টেকনাফ নতুন গণি মার্কেটে নামে বেনামে এক লাইনে ১০ টি দোকান যা প্রতিটি ১০ লাখ টাকা সেলামিতে ১ কোটি টাকায় ভাড়া নেন। যার প্রতিটি দোকানের ভাড়াও নাকি মাসিক ১০ হাজার টাকা । সচেতন মহলের মতে সেসব দোকানের বিক্রিই বা কতো লাভই বা কতো !
এছাড়া রয়েছে লামার বাজার নাফ সিটি সেন্টারের কাপড়ের দোকান। ঢাকা-চট্টগ্রামে গার্মেন্টস সহ টেকনাফ স্থল বন্দরের কোটি টাকার আমদানী রপ্তানীর ব্যবসা। পুরাতন গণি মাকেটে লোগো নামের একটি তৈরী পোষাকের চেইন শো রুম।
লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়ন ছোট বারদোনা গ্রামের মৃত কবির আহমদ ছেলে ওসমান এলাকায় তৈরী করেছেন কয়েক কোটি টাকার আলীশান বাড়ি। যা দেখে এলাকার মানুষ হতবাক হয়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মূলত ইয়াবা ও হুন্ডি ব্যবসার টাকা বৈধ করতে বন্দরের ব্যবসা সহ কসমেটিক্স ব্যবসাকে
শোঅফ করে নিজেদের অবৈধ কারবার আড়াল করে আসছিল সুচতুর ওসমান সিন্ডিকেট।
কিন্তু মাদক বিরোধী অভিযান শুরুর পর ১০২ ইয়াবা কারবারী আত্মসমর্পন করলে ওসমান সিন্ডিকেটের থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে। আত্মসমর্পনকৃত ইয়াবা কারবারীরা ওসমান সিন্ডিকেটের অবৈধ ইয়াবা ও হুন্ডি ব্যবসার তথ্য ফাঁস করে দেয়।
এরপর জেলা পুলিশের ২২ হুন্ডি কারবারীর তালিকায় তার নাম উঠে। পরবর্তীতে লামার বাজারের হুন্ডি জলিলের ছেলে হুন্ডি ইয়াছিন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলে উক্ত মামলায় ওসমান পলাতক আসামী হয়। সেই থেকে সাতকানিয়ার হুন্ডি ওসমান পলাতক রয়েছে।
তবে তাদের পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ীরা জানান, হুন্ডি ওসমান তার নিকটাত্মীয় ও বিশ্বস্থ্য কয়েকজন কর্মচারীকে দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি টেকনাফে তাদের প্রত্যেকটি দোকানে রয়েছে শক্তিশালী সিসি ক্যামড়া। সেই সিসি ক্যামেড়ার মাধ্যমে ওসমান ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশ-বিদেশ থেকেও ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে।
স্থানীয় বৈধ ব্যবসায়ী যারা শত লোভ লালসার উধ্বে থেকে সৎভাবে ব্যবসা করে যাচ্ছেন তারা দাবী করেছেন ওসমান সিন্ডিকেটকে যেন আইনের আওতায় আনা হয় নাহলে বৈধ আর অবৈধ ব্যবসার মধ্যে কোন তফাৎ থাকবে না। অবৈধ ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যত প্রজন্ম আবারো অবৈধ ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়ার আশংকা রয়েছে বলে মনে করেন তারা।
ওসমানের মতো টেকনাফ বাস স্টেশন, উপরের বাজার, লামার বাজার এলাকায় বৈধ ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ও হুন্ডি কারবারের মাধ্যমে রাতারাতি শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া অধিকাংশ অবৈধ কারবারী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের কেউ ছিল একসময় ফুটপাতের হকার আবার কেউ কসমেটিক্স দোকানের কর্মচারী অথবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আবার কেউ চায়ের দোকানদার অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মাদক বিরোধী সচেতন মহলের মতে বহাল তবিয়তে চলা তাদের অবৈধ আয়ের বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো যেন উপহাস করছে চলমান মাদক বিরুধী অভিযানকে।
