এক কাতার প্রবাসী জামায়াত কর্মীকেও মামলায় আসামি করার অভিযোগ
কালের কন্ঠ অনলাইন :
কক্সবাজার শহরের এক ‘নাশকতা’র ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের ১৪৯ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন চন্দ্র মজুমদার এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা রয়েছে আরো ১৩০ জন। মামলায় মোস্তাক আহমদ নামের একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য।
মামলাটির এজাহার নামীয় একজন জামায়াত কর্মী কাতারে অবস্থান করলেও তাকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা এবং সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান জানান, ‘আমরা থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি মোটেই জানি না। এমনকি পুলিশ আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোন কিছু জানার চেষ্টাও করেনি।’
এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামিরা হচ্ছেন- কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা শহিদুল আলম বাহাদুর, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মো. আলী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন রিপন, সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান ফাহিম, যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুল আলম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাশেদুল হক রাসেল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন মনির, জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলাম হাসান, শ্রমিক নেতা এমইউ বাহাদুর, সাবেক শিবির নেতা হাসান মো. ইয়াছিন, কাতার প্রবাসী লায়েক ইবনে ফাজেল, সাবেক ছাত্রদল নেতা সরওয়ার রোমন, মহিউদ্দিন সিকদার, শহর ছাত্র দলের সভাপতি এনামুল হক এনাম, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, সদরের খরুলিয়ার তারেক বিন মোকতার, আয়াত উল্লাহ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, ২৮ অক্টোবর সকালে ৪.৫০ টার সময় বিএনপি-জামায়াতের লোকজন সংগঠিত হয়ে শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকায় মিছিল বের করে সরকার বিরোধী শ্লোগান দেয়। এ সময় তারা একটি ইজিবাইকে (টমটম) অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তারা পালিয়ে যায়। ওই সময় একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
ওসি আরো জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর লক্ষ্যে বিএনপি-জামায়াত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাদের আরো পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল পুলিশের দায়ের করা মামলাটি ‘সাজানো’ দাবি করে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়েছে।
তারা চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে ‘বায়বীয়’ ঘটনা দেখিয়ে ‘গায়েবী মামলা’র পথ বেছে নিয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের অধিকাংশ ঘটনাস্থলে থাকা তো দূরের কথা, তারা কক্সবাজারের বাইরে রয়েছে। রাশেদ মো. আলী অসুস্থ পিতার চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যস্ত। ৫নং আসামি জামায়াত কর্মী লায়েক ইবনে ফাজেল কাতারে অবস্থান করছে অন্তত তিন বছর। এতেই প্রমাণিত হয় মামলটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও বিরোধী শক্তিকে দমনের জন্য করা হয়েছে।
