বছর জুড়ে রমজানের শিক্ষা

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ২ years ago

জহির উদ্দিন বাবর : রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির বার্তা নিয়ে আসা রমজানের বিদায়ী সুর বাজছে। কাল বা পরশু সমাপ্তি ঘটবে এই মাসের। এক মাস সিয়াম সাধনার পর এখন আমরা পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। রমজান আমাদের জীবনে যে সম্ভাবনা নিয়ে এসেছিল, তা পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি, সেই আক্ষেপ অনেকের মধ্যে আছে। এই রমজান থেকে আমরা কতটা পুরস্কার নিতে পেরেছি, সেই হিসাব-কিতাব মেলানোর সময় এসেছে। যারা রমজানের পুরস্কার নিশ্চিত করতে পেরেছি, তারা নিঃসন্দেহে সফল। হেলায়-খেলায় যারা রমজানের প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছি, এটা তাদের দুর্ভাগ্য। তবে তা সংশোধনের সুযোগ একদম হাতছাড়া হয়ে যায়নি। রমজান একটি বিশেষ উপলক্ষ মাত্র। রমজানকে কেন্দ্র করে মহান প্রভু তার অফুরন্ত ভা-ার খুলে দেন বান্দার জন্য। যারা এই সুযোগেও প্রভুর ভান্ডার থেকে নিজেদের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারেন না, তাদের জন্য রমজান-পরবর্তী জীবনে রমজানের শিক্ষা ধরে রাখাই শেষ অবলম্বন।

প্রকৃতপক্ষে এক মাস রমজান, তবে এর শিক্ষা ধরে রাখতে হয় বাকি ১১ মাসও। এই শিক্ষা ধরে রাখা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। রমজান মূলত প্রশিক্ষণের মাস। মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কোর্সের সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ণীত হয় প্রশিক্ষণার্থীর পরবর্তী কার্যক্রমের ভিত্তিতে। এজন্য রমজানের এক মাসের কার্যক্রম যতটুকু বিবেচ্য, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ রমজান-পরবর্তী আচরণ-ব্যবহার।

রোজার আত্মিক দিকটি সারা বছরই পালন করতে হয়। সংযম রোজার মাসে যেমন প্রয়োজন, তেমনি অন্য সময়েও। সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, মিথ্যাচার, পরচর্চা, অপবাদ, হিংসা, লালসা ইত্যাদি বর্জন করতে রমজানে যেমন জোর তাগিদ রয়েছে, তেমনি রমজান-পরবর্তী জীবনেও থাকবে। মিতব্যয়িতা ও পরিমাপ-বিধি বজায় রেখে চলার নির্দেশ সারা বছরের জন্য একই। ক্ষুধা, পিপাসা ও জৈবিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণের যে অভ্যাস মাসব্যাপী কঠিন অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে, রমজানের পরও তার চর্চা থাকা উচিত। রমজানে প্রত্যেকের জীবন রুটিন অনুযায়ী সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়েছে। এই শৃঙ্খলা তার জীবনকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে। কেউ যদি চান রমজানের রুটিন বাস্তবায়ন করে সারা বছর চলবেন, তবে তিনি অবশ্যই এর সুফল পাবেন। রমজান ছিল মুমিনের জন্য আমলের বসন্তকাল। আমলের এই ধারা সারা বছর ধরে রাখতে পারাটাই রমজানের শিক্ষা।

পবিত্র এই মাসের শিক্ষাগুলো বাকি ১১ মাস ধরে রাখাই রমজানের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণের মাস রমজান-পরবর্তী জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত প্রাপ্ত দীক্ষা অনুযায়ী চলা কাম্য। এজন্য রমজানের প্রাপ্তি থেকে যারা বঞ্চিত হয়েছি, তাদের জন্য রমজান-পরবর্তী জীবনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রমজান বিদায় নিলেও রমজানের শিক্ষা সজীব থাকবে বছর জুড়ে। সারা বছর রমজানের শিক্ষার ওপর চলতে পারাই হলো রমজানের প্রকৃত সাফল্য। রমজানে পরিবেশ-পারিপাশির্^কতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আমরা সংশোধন হয়ে যাই। কিন্তু সারা বছরই বিশুদ্ধতার এই চর্চা অব্যাহত রাখাই হচ্ছে প্রকৃত সফলতা। রমজান যদি আমাদের জীবনে কোনো ছাপ ফেলতে না পারে, আমাদের মধ্যে পরিবর্তনের ধাক্কা না দিয়ে যায়, তবে তা অনেকাংশে বৃথা। তাদেরই হাদিসের পরিভাষায় হতাভাগা বলা হয়েছে। আসুন, আমরা হতভাগা নয় সফলদের কাতারে নিজেদের নাম লেখাই।

লেখক : আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ