প্রচন্ড ঝড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বৃটিশ-কলাম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : প্রচণ্ড ঝড়ে রেল ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় বৃটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আটকে পড়া হাজার হাজার মানুষকে উদ্ধারে মোতায়েন করা হয়েছে কানাডিয়ান আর্মড ফোর্সেসের সদস্যদের। রোববার রাতভর ঝড়ের কবলে ওই প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আটকে পড়েন অসংখ্য মানুষ। এ সময়ে ওয়াশিংটন ডিসি সফরে রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পুনর্গঠনে সেনাবাহিনী সহায়তা করবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। এরই মধ্যে ভূমিধসে মারা গেছেন এক নারী। নিখোঁজ রয়েছেন দু’জন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এটি একটি দীর্ঘ স্যাঁতস্যাতে আর্দ্র পথ। এই পথে পানি প্রবাহিত হয় মেরু অঞ্চলের দিকে। ওই অঞ্চলের কর্মকর্তারা এ জন্য দায়ী করছেন জলবায়ু পরিবর্তনকে। কিন্তু এমন বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সুস্পষ্ট নয়। ঘূর্ণিঝড়, টাইফুন, বড় কোনো ঝড়ের জন্য প্রচুর শক্তি প্রয়োজন হয়। এ জন্য সমুদ্রের উপরিভাগ খুব বেশি উষ্ণ হয়ে উঠলে তা থেকে এমন ঝড় হয়ে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হয়নি।

বিবিসি আরো লিখেছে, শিল্প যুগ শুরুর পর থেকে বিশ্বের তাপমাত্রা প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি বিশ্ববাসী কার্বন নির্গমন না কমায় তাহলে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। বৃটিশ কলাম্বিয়ার মুখ্যমন্ত্রী জন হরগান বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, ওইদিনই স্থানীয় সময় রাত ১২ টা থেকে জরুরি অবস্থা কার্যকর হবে সংশ্লিষ্ট এলাকায়। তিনি আরো বলেছেন, তার প্রদেশে এমন কোনো মানুষ নেই, যারা এই বিপর্যয়ের শিকারে পরিণত হননি। এসব দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে মনুষ্য সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত কপ২৬ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা সমবেত হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরেই কানাডা এই বিরূপ আবহাওয়ার শিকারে পরিণত হলো। এই গ্রীষ্মে বৃটিশ কলাম্বিয়া রাজ্যে রেকর্ড উচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে দাবানলে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫০০ মানুষ। ধ্বংস হয়ে গেছে লিটন নামে একটি গ্রাম।

মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ বৃটিশ কলাম্বিয়ায় বৃষ্টি এবং বাতাসের প্রবাহ স্তিমিত হয়েছে। কিন্তু অনেক স্থানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ আটকা পড়ে আছে। এই সপ্তাহে আরো বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাষ দেয়া হয়েছে। সড়ক ধসে যাওয়ায় এবং বন্যায় সব মহাসড়ক প্লাবিত হওয়ায় অনেক মানুষ পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছেন। বুধবার তাদের কাছে খাবার পৌঁছে দেয়া হয়েছে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে। তুলামিন শহরে আটকা পড়ে আছেন প্রায় ৪০০ মানুষ।