আলোকিত টেকনাফ ও নিউজ কক্সবাজার নামক দুইটি অনলাইন মিডিয়াই টেকনাফ শীলখালীর ইয়াবা কারবারী আবুল বশরের উত্থান যেভাবে,বন্দুক যুদ্ধ মামলা থেকে বাদ যেতে মরিয়া, পুলিশের উপর হামলা, হত্যা ও ইয়াবা মামলা থেকে বাদ যেতে কোটি টাকার মিশন, জমির খতিয়ান জালিয়তি করে সরকারী একটি বাহিনীকে জমি বিক্রি, ইয়াবা ও হত্যা মামলার আসামী হয়েও পুলিশের সাথে আঁতাত করে ঘুরাফেরা করা, টাকা দিয়ে ইয়াবা মামলায় আবদুল খালেক নামক এক ব্যক্তিকে মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়া সহ বিভিন্ন ধারাবাহিক মিথ্যা সংবাদে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
উক্ত সংবাদে আমার বিরুদ্ধে তথ্যহীন অনেক অপবাদ উল্ল্যেখ করা হয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্যের সাথে আমার কোনো আঁতাত নেই। তারা আইন শৃঙ্কলা বাহিনী, যাকে তারা অপরাধী হিসেবে প্রমান পাবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে। খালেক নামক ব্যক্তিটি ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ। এখানে পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করে ইয়াবা মামলায় খালেক কে ঢুকিয়ে দেওয়ার এই রকম ক্ষমতাবান ব্যক্তি আমি নই। আর সংবাদে সব চেয়ে উল্ল্যেখযোগ্য বিষয় হল হ্নীলা সিকদার পাড়ার মোঃ হোসেনের পূত্র মোঃ ওসমান (২৫) পুলিশের সাথে ইয়াবাসহ বন্দুক যুদ্ধে নেত্রকোনায় নিহত হয়। তার সাথে নাকি আমার ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে। সে সম্পর্কে আমার শালা হলেও তাদের সাথে আমার এই ধরণের কোনো ব্যবসা বাণিজ্য নেই।
প্রকৃত ঘটনা এই যে মোঃ ওসমান ছিলেন একজন সৌদি প্রবাসী। তিনি নিহত হবার দশদিন আগে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিলেন। যার পার্সপোট ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র আমাদের কাছে আছে। সে সৌদিতে একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করত,,যার মালিক বাংলাদেশের নেত্রকোনার এক ব্যক্তি। সে মালিকের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য নেত্রকোনায় গিয়েছিল। সে নেত্রকোনায় যাওয়ার পরদিন সকালে পুলিশ রাস্তার পাশে আমার শালা মোঃ ওসমানের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পায়। পরে আমার শাশুর বাড়ির লোকজন বিভিন্ন মাধ্যমে মোঃ ওসমানের নিহত হওয়ার খবর জানতে পেরে তার মেঝ ভাই নেত্রকোনায় গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে লাশটি গ্রহন করে। কিন্তু পুলিশ সে নিহত হবার কোনো কারণ তার মেঝ ভাইকে জানাতে পারেনি। এবং কোনো মাদক মামলাও করেনি। এর আগেও ওসমানের নামে মাদক মামলাত দুরের কথা টেকনাফ থানায় একটি জিডিও ছিলনা। কারণ সে ছিল একজন সৌদি প্রবাসী। অথচ উল্ল্যেখিত কথিত দুইটি অনলাইনে সংবাদের এক অংশে উল্ল্যেখ করা হয় যে ওসমানের লাশের পাশ থেকে পুলিশ ৭০৫ গ্রাম হিরোইন ও তিন হাজার পিচ ইয়াবা জব্দ করে। তার সাথে নাকি মোঃ ঈসমাইল নামক আরো এক ব্যক্তি নিহত হয়। সে নাকি সম্পর্কে আমার বউয়ের চাচাত ভাই। কিন্তু আমার বউয়ের এই নামে কোনো চাচাত ভাই নেই। এই সবকিছু মুলত সাজিয়েছে আমাকে হয়রানী করার জন্য ও ইয়াবাকারবারী বানানো জন্য।
অন্যদিকে উক্ত সংবাদের শিরোনামে আরো উল্ল্যেখ করা হয়েছে যে গত ৩০-০৩-২০১৯ তারিখে টেকনাফ মডেল থানায় ইয়াবা ও বন্দুক যুদ্ধের তিনটি মামলা হয়। যার ঘটনাস্থল টেকনাফ হাবীবছড়া বাজারের পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে। পুলিশ এক ডাকাত ও ইয়াবাকাবারীকে আটক করে ঐ স্থানে অভিযানে যায়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী তখন রাত ২১.৩৫ মিনিট। অথচ আমি একজন এলাকার পরিচিত মুখ ও জমি ব্যবসায়ী। সেনাবাহিনীসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার সাথে আমার জমি ব্যবসা রয়েছে। ঘটনাস্থল আমার বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরে। এত রাতে আমি ওখানে কেন যাব ? আর উক্ত মামলাতে ১২ নং আসামীতে আমার নামটি দেওয়া হয়। আমি পুলিশকে দুষ দেবনা,আমার এলাকার কিছু শক্র আমার নামটি ঢুকিয়ে দিয়েছে। সুষ্ট তদন্ত করলে ইনশাল্লাহ আমি নির্দোষ প্রমানিত হব। ইতি মধ্যে আমি বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মহোদয় ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি দরখাস্ত দিয়েছি। সংবাদে আরো উল্ল্যেখ করা হয় আমি নাকি উক্ত মামলার বিষয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এটি একটি ডাহা মিথ্যা কথা। আমি আইজিপি মহোদয় ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর যে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি তা হল এলাকার কিছু শক্র আমার নামটি পুলিশের অজান্তে ডুকিয়ে দিয়েছে । যার অনুলিপি আমার কাছ আছে, আমি শুধু এই মামলা থেকে সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে প্রতিকার চেয়েছি। আমি যদি ইয়াবা ব্যবসায়ী হই তাহলে নিশ্চয় আইন আমাকে শাস্তি দিবে,আর না হলে মুক্তি দিবে আমি এই বিশ্বাসটা রাখি।
আর সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ আমি কত বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী, কত বড় জমির খতিয়ান জালিয়তকারী, কত বড় সন্ত্রাসী আপনারা আমার এলাকায় এসে সবার সামনে তদন্ত করুণ। সরকারী কয়েকটি বাহিনী সহ দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে আমার জমির ব্যবসা রয়েছে। আমি যদি কোনো খতিয়ান জালিয়তি করে থাকি সেটা তারা নিশ্চয় আমাকে ধরবে। এখানে আমাদের ব্যবসায়ীক বিষয়ে অন্যের মাথা ঘামার সুযোগ নেই।
আমার জীবনে আর্থিক অবস্থার যত পরিবর্তন সব কিছু জমির ব্যবসার মাধ্যমে হয়েছে। আমি কোনো অবৈধ ব্যবসায় জড়িত নই। সেটা সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসন নিশ্চয় জানতে পারবে। আর আর আমার যত আয় ও আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন সবকিছু ফাইল ঘুছিয়ে আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিয়েছি।
তদন্তের মাধ্যমে আমি যদি আমি অপরাধী হয়ে থাকি নিশ্চয় সাংবাদিক ভাইরা আমার বিরুদ্ধে আরো বেশি করে লিখেন। যদি অপরাধী না হয়ে থাকি তাহলে এই সব অপপ্রচার বন্ধ করুণ। এটা সত্য যে আমাকে যড়যন্ত্র মুলক ভাবে শামলাপুর মুস্তাফিজ হত্যা মামলার দুই নাম্বার আসামী করা হয়েছে। কিন্তু এই হত্যায় আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তার জন্য মামলার একাধিক তদন্তে চার্জশীট থেকে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হইছে। কিন্তু বাদী আমার কিছু প্রতিপক্ষের লোকের ইশারায় আমার বিরুদ্ধে কোর্টে বেশ কয়েকবার নারাজী দেয়। মামলাটি এখন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উখিয়া সার্কেলের হাতে তদন্তনাধীন আছে। আমি আশা করি সুষ্ট তদন্ত হলে ইনশাল্লাহ আমি এই চার্জশীট থেকেও বাদ যাব। কারণ আমি কোনো অন্যায় করেনি। এই মার্ডারে আমার কোনো হাত নেই। আর আমি এই মিথ্যা সংবাদ গুলোর বিরুদ্ধে সময় মত কোর্টে আইনি আশ্রয় নেব। পরিশেষে সব মিলিয়ে আমি উক্ত মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ গুলোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
প্রতিবাদকারী
আবুল বশর
বাহারছড়া শীলখালী, টেকনাফ, কক্সবাজার।
