পুলিশ পাহারায় ৫৮ বছরের কনে নিয়ে বাড়িতে ৭৮ বছরের বর

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক :
বছর দেড়েক আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ক্ষুদিরামবাবুর স্ত্রী পদ্মাদেবী বেজ। স্ত্রীর মৃত্যুর পর অবিবাহিত শ্যালিকা দুর্গাদেবীকে বাড়িতে এনে রাখেন ক্ষুদিরামবাবু।

এদিকে ক্ষুদিরামবাবুকেও ছেলে-বৌমারা যত্ন করছিল না বলে অভিযোগ। ক্ষুদিরামবাবু সিদ্ধান্ত নেন, যে শ্যালিকা দেখভাল করছে, তাকেই স্ত্রীর মর্যাদা দেবেন।

যেই ভাবা সেই কাজ। ৫৮ বছরের শ্যালিকাকে বিয়ে করলেন ৭৮ বছরের ক্ষুদিরাম বেইজ। বর নতুন বৌকে নিয়ে বাড়ি ঢ়ুকতে চাইছেন। কিন্তু বাড়িতে ঢুকতে গেলেই ঘটে বিপত্তি।

বাড়ির দরজা আটকে দাঁড়িয়ে নিজের ছেলেরা। কিছুতেই বাবা ক্ষুদিরামকে বাড়িতে ঢুকতে দিতে চায় না তারা। বাধ্য হয়ে তাই পুলিশের শরণাপন্ন হন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সাহায্যেই বাড়িতে ঢুকেন প্রবীণ এই নবদম্পতি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আরামবাগের নৈসরাইয়ে রোববার এ ঘটনা ঘটে। খবর আনন্দবাজার’র।

ক্ষুদিরামের কথায়, ‘যে আমার খাওয়া-পরার দায়িত্ব নিয়েছে, সেই আমার স্ত্রী। তাকে সম্মানটুকু না দিই কী করে?’

একাজে পাশে পেয়েছিলেন প্রতিবেশীদেরও। রোববার দুপুরে তারা জোট বেঁধে গাঁটছড়া বেঁধে দিলেন ক্ষুদিরামবাবু আর দুর্গাদেবীর। সোলার মুকুট আর টোপর পরে মন্ত্রপাঠ আর সিঁদুর দান হল। হল শুভদৃষ্টি, মালাবদলও। বিয়ের মন্ত্রপাঠ করলেন স্থানীয় পুরোহিত বিকাশ ভট্টাচার্য।

বাবার বিয়েতে আপত্তি কেন ছেলেদের? প্রতিবেশীরা জানান, বাবাকে ছেলেরা দেখে না। শুধু সম্পত্তি ভোগ করতে চায়। বাবা বিয়ে করলে সম্পত্তি ভাগ-বাঁটোয়ারা হলে ভাগে যে কম পড়বে!

তবে ক্ষুদিরামবাবুর ৪৪ বছরের ছেলে রামপ্রসাদ বেজের কথায়, সম্পত্তি ভাগ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। বাবার এমন কাণ্ড তো লোক হাসানো। বাবাকে বলেছিলাম মাসিকে নিয়ে থাকো। শাঁখা-সিঁদুর পরানোর দরকার নেই।

ছেলেদের কথা কানেই তুলছেন না ক্ষুদিরামবাবু। পাশে স্ত্রীকে বসিয়ে হাসিমুখে তিনি বলেন, ‘কে কী বলল, আমার কিছু যায় আসে না। দুর্গাকে তার সম্মান দিতে পেরেছি, এতেই আমি খুশি।’