পুরাতন রোহিঙ্গাদের মাঝে আটক আতংক

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

গিয়াস উদ্দিন ভুলু,টেকনাফ
বিগত কয়েক বছর ধরে সীমান্তবর্তী দেশ মিয়ানমার রাখাইন রাজ্য থেকে জুলুম,নির্যাতন ও অমানবিক অত্যাচারের ভয়ে মানবিক খ্যাত বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে আসছে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা।আর এই সমস্ত রোহিঙ্গারা বসতি স্থাপন করল সীমান্তবর্তী এলাকা উখিয়া+টেকনাফে।
বর্তমানে এই দুই উপজেলা রোহিঙ্গা খ্যাত এলাকা হিসাবে সারা বিশ্বে খুবেই পরিচিতি লাভ করেছে।।
সেই সুত্র ধরে গত ২৫ আগস্ট থেকে এই পর্যন্ত আবারো রাখাইন সেনাদের অত্যাচারে মানবিক বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় ১৩ লক্ষ রোহিঙ্গা।
সেই অনুপ্রবেশ এখনো অব্যাহত রয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপন করে দিচ্ছে উখিয়া-টেকনাফ উপজেলার অন্তর্গত বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে।।
অথচ দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে এদের মধ্যে বহু সংখ্যক রোহিঙ্গা পরিবার সু-কৌশলে স্থানীয় প্রভাব শালীদের ম্যানেজ করে ভাড়া বাসাসহ লোকালয়ের বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে। তার পাশাপাশি এই সমস্ত রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের সাথে মিশে গিয়ে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড সংগঠিত করে যাচ্ছে।
আর এই অসাধু,মাদক পাচারকারী রোহিঙ্গাদের কারনে বিপাকে পড়েছে অত্র এলাকার সাধারন মানুষ।।
এদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের সরকারের দেওয়া নির্দিষ্ট স্থানে ফিরিয়ে আনতে কঠোর ভুমিকা হাতে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সেই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিন ধরে কক্সবাজার জেলার আনাচে কানাচে স্থানীয়দের ভাড়া বাসা গুলোতে সাঁড়াশী অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে কক্সবাজার র‍্যাব (৭) এর সদস্যরা। এই অভিযানের সফলতা হিসাবে র‍্যাব সদস্যরা বিভিন্ন ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৫০জন রোহিঙ্গাকে নির্দিষ্ট স্থান শরনার্থী ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
আর এই সমস্ত রোহিঙ্গা আশ্রয় পশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ৫ জন ব্যাক্তিকে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দেওয়া হয়েছে।
আর প্রশাসনের সদস্যদের সাঁড়াশী অভিযান টের পেয়ে দীর্ঘদিন লোকালয়ে ও ভাড়াবাসাসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গারা তাদের বসতি স্থান তালা মেরে সু-কৌশলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।।
অপরদিকে প্রশাসনের সদস্যদের সাঁড়াশী অভিযানে সব চেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছে স্থানীয়রা। কারন দীর্ঘদিন আগে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা একাকার হয়ে মিশে আছে স্থানীয়দের মাঝে। এর এক মাত্র কারন হচ্ছে উখিয়া-টেকনাফের শত শত পরিবার আত্বীয়তার বন্ধন সৃষ্টি করেছে রোহিঙ্গাদের সাথে।
অত্র এলাকার অনেক যুবক বিয়ে করেছে রোহিঙ্গা যুবতীদেরকে।
আবার এখানকার অনেক ভদ্রলোক বেশী টাকার লোভে পড়ে নিজের মেয়েকে রোহিঙ্গা যুবকদের সাথে বিয়ে দিচ্ছে।
তথ্য সুত্রে আরো জানা যায়, নিবন্ধিত না হয়ে যে সমস্ত রোহিঙ্গারা এখনো উখিয়া-টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসতি স্থাপন অব্যাহত রেখেছে। তাদেরকে আইনের আওয়াতাই এনে ক্যাম্পে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য র‍্যাব সদস্যরা যে অভিযান পরিচালনা করছে সেই অভিযানে আটক আতংকে পালিয়ে নিজের বসতি বাড়ী ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে পুরাতন রোহিঙ্গারা।।
তার পাশাপাশি নির্ঘুম আতংকে রয়েছে ভাড়াবাসার মালিকরা।
এব্যাপারে কক্সবাজার র‍্যাব 7 এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন জানান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী লোকালয়ে এবং বাড়াবাসায় অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিবন্ধিত এবং নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে আসতে আমাদের এই সাঁড়াশী অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার পাশাপাশি যে সমস্ত অসাধু ব্যাক্তিরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় পশ্রয় দিয়ে বসতি স্থাপন করার জন্য সহযোগীতায় লিপ্ত রয়েছে সেই সমস্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।