পর্ব-৮ : হ্নীলায় ইয়াবার কালো টাকা উড়ছে : শীর্ষপদ দখলে নিতে ওরা মরিয়া

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
হ্নীলায় সড়ক পথে কোন সংস্থার চেকিং ব্যবস্থা না থাকায় কয়েকটি আলোচিত পাড়া এখন ইয়াবার ঘাটিতে পরিনত হয়েছে। এ সুযোগে হ্নীলায় এখন ইয়াবার কালোটাকা উড়ছে এবং ইয়াবার স্বার্থে দলের শীর্ষপদ দখলে নিতে ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং স্বজেনরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। হ্নীলার যে ক’টি পাড়া ইয়াবা ঘাটিতে পরিনত, তাদের মধ্যে পূর্ব পানখালী পশ্চিম, পানখালী, ফুলের ডেইল, রঙ্গীখালী, লেদা, আলীখালী ও হারাংখালী। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াবা বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রন করছে, রাজনৈতিক দলের কতিপয় অসাধু নেতা ও কর্মীরা। ওরা উর্ধতন নেতাকে বশিভূত করে এসব অপকর্ম ও সংগঠন বিরোধী কাজে জড়িত হয়ে পড়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখলে নিতে ওরা ইয়াবার কালোটাকা টাকাকে পুঁজি করছে এবং ইয়াবা কারবারীরা সুযোগ নিতে সমানভাবে এ অর্থ যোগান দিচ্ছে। এছাড়া ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ন্ত্রনে আনতে ওরা টপটুবটম কালোটাকা ছড়াচ্ছে। ইয়াবা কারবারীরা রাজনৈতিক দলের কর্মীরা যে কোন পদের খাতায় নাম উঠাতে পারলেই ওদের সাত খুন মাফ। দলের নেতা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত ওদের নেটওয়ার্ক থাকায় ইয়াবা ব্যবসাও পাচার রোধ করা যাচ্ছে না। বিস্তার লাভ করছে, মরণ নেশা ইয়াবা। বেশীরভাগ যুব সমাজ এ পথে ধাবিত হচ্ছে। এক সমীক্ষায় জানা যায়, অতীতের মিয়ানমার থেকে ইয়াবা/মাদক সংশ্লিষ্টদের হাতে জব্দ বা আটক হতো বেশীরভাগ ৫০ হাজার। এখন জব্দ হচ্ছে বস্তা বস্তা ও লাখ লাখ ইয়াবা। ইয়াবা সেবনের চেয়ে খুচরা ব্যবসা বৃর্দ্ধি পেয়েছে। এমন কোন পাড়া বা গ্রাম নেই যে, ইয়াবা খুচরা ব্যবসা হচ্ছেনা। তালিকাভূক্ত এবং অতালিকাভূক্ত নব্য ইয়াবা কারবারীরা ইয়াবার ডিলার সেজে নীরবে ইয়াবা ব্যবসা করে যাচ্ছে। এলাকায় ওদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের ব্যাপক জনশ্রুত থ্কালে ও কালোটাকার বলে ওরা পার পেয়ে যাচ্ছে। ওদেরকে যারা আশ্রয় ও পশ্রয় দিচ্ছে, এরা কারা? প্রশাসন এ ব্যাপারে মাসিক আইন শৃংখলা উন্নয়ন ও চোরাচালান ট্রাস্কফোর্স কমিটির সভায় ইয়াবা/মাদক নিয়ন্ত্রনে সিন্ধন্ত গ্রহণ করলেও এর ফলপ্রসু জনগণ দেখছেনা। শুধু ইয়াবা/ মাদক সংক্রান্ত নানা অপকর্ম ও অশ্লীলতার কারণে অপরাধ প্রবনতা দিন দিন বাড়ছে এবং আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি ও ঘটছে। এর থেকে পরিত্রানের উপায় কি? ভূক্তভোগী ও সমাজের সচেতন জনগণও সুশীল সমাজ খুজে পাচ্ছেনা। তারা শুধু প্রশাসনের প্রতি চেয়ে আছে মাত্র। এলাকায় এখন ওদের আধিপাত্য চলছে। সম্প্রতি হ্নীলায় যুবলীগের সভাপতিরপদ ইয়াবা কারবারীকে দেয়ার অপর যুবলীগের একাংশ কর্মীরা বাদ প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও গত বছরও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতির পদ নিতে লেদার এক ইয়াবা ব্যবসায়ীরপুত্র কালোটাকা ছাড়িয়ে ছিল বলেও অনুরূপভাবে অভিযোগ উঠেছে। এতে দলের ত্যাগীকর্মী ও নেতারা প্রধান্য না পেয়ে সুবিধাভোগীরা বেশী প্রধান্য পাচ্ছে। ফলে দলের সাংগঠনিক কাজকর্ম ঝিমিয়ে পড়ছে এবং দ্বিধাভিবক্তি হয়ে পড়েছে দলের নেতা কর্মীরা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হ্নীলা ইউনিয়নের যে সব পাড়া ইয়াবা ডিলারে পরিনত, তাদের মধ্যে জাদিমুড়া, লেদা, আলীখালী, রঙ্গীখালী ফুলের পূর্ব ও পশ্চিম পানখালী, ওয়াব্রাং। এদিকে ২৯মার্চ যৌথবাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযান টেকনাফ পৌরসভা, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও সাবরাং শুরু করার পরপরই তালিকাভূক্ত ইয়াবা/মাদক কারবারীরা এলাকা ছাড়া হয়েছে। এ অভিযান চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।