পদ্মা সেতু প্রকল্পের আরো দেড় বছর সময় বাড়ছে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : পদ্মা সেতু নির্মাণে তৃতীয় দফায় সময় বাড়ছে দেড় বছর। এ হিসেবে ২০২১ সালের জুনে বহু প্রতীক্ষিত সেতুটির কাজ শেষ হবে। তবে সময় বাড়লেও ব্যয় বাড়ছে না বলে জানিয়েছে সেতু বিভাগ। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। মূলত, খরস্রোতা পদ্মার তলদেশের মাটির গঠন প্রকৃতির ভিন্নতার কারণে নকশা জটিলতায় সময় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

প্রকল্পটির প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০০৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়ে ২০১৫ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। পরে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

এরপর আবার চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রকল্পটি শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। এবার তৃতীয়বারের মতো ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৬৬ শতাংশ।

সেতু বিভাগ জানায়, মেয়াদ ১ বছর ৬ মাস বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পের চূড়ান্ত ডিপিপি পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনাটি যাচাই-বাছাই করছে পরিকল্পনা কমিশন। যাচাই-বাছাই শেষে তা একনেক সভায় পাঠানো হবে।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বেশ কিছু কারণে প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে নদীশাসন এবং ২২টি পিলার ও পাইলের নির্মাণ নকশা ঠিকাদারকে দিতে বিলম্ব হওয়াটা অন্যতম। তবে এবার সময় বাড়লেও ব্যয় বাড়বে না। তিনি বলেন, আশা করা যায়, ওই সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, সময় বাড়লে ব্যয় না বাড়ার প্রশ্ন আসে না। কারণ সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টাফদের বেতন ও সরঞ্জামাদির দাম বেড়ে যাবে। তাই এখন ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব না এলেও পরে হয়তো আসবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে একটি প্রচলন হয়ে গেছে, প্রকল্প নেওয়ার শুরুতে ব্যয় কম দেখানো হয়। এর পরই শুরু হয় একের পর এক ব্যয় বৃদ্ধি।

সময় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা দেখিয়ে সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, প্রকল্পের সময় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মূল নদীর ৪০টি পিলারের মধ্যে ২২টির নকশা নতুন করে করতে হয়েছে। প্রতিটি পিলারে একটি পাইলও বৃদ্ধি করা হয়। এই কারণে আরও ৮টি পিলারের পাইল ড্রাইভিং কাজও স্থগিত ছিল। ইতোমধ্যে সবগুলো পিলারের পাইল পুনঃনকশা শেষ হয়েছে। এসব জটিলতায় যথাসময়ে ঠিকাদারকে পাইলের নকশাও দেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, ২০১৫ সালে মাওয়া প্রান্তে বর্ষা মৌসুমে সাড়ে তিন থেকে চার মিটার সেকেন্ড স্রোতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সাড়ে ৫ লাখ ঘনমিটারের দুই গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে ট্রায়াল সেকশনের কাজও দেরি হয়। এ সময় জরুরি ভিত্তিতে নকশা অনুযায়ী ভরাট করতে অতিরিক্ত ৬ মাস প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া, জাজিরা প্রান্তে নদীশাসনের ১১শ’ মিটার পরীক্ষামূলক কাজও যথাসময়ে শেষ হয়নি। নকশা অনুযায়ী পরীক্ষামূলক কাজ সঠিক হয়নি। এই কাজ শেষ করতে দেড় বছর বেশি সময় লাগে।