শামীম ইকবাল চৌধুরী : বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে উপজেলা সদরের তরকারি, শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনী খাদ্য সামগ্রীর বাজার স্থানীয় স্কুলমাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতি ১৬ এপ্রিল থেকে স্থানীয় ছালেহ আহাম্মদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসেছে এ হাট। সকাল ৭টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চলবে বেচা-কেনা। বৃহস্পতিবার ছিল নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের সাপ্তাহিক বাজারের দিন।
শুক্রবার সকাল ১০টায় সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়, এ বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দোকান বসানো হয়েছে। সারাদেশের ন্যায় নাইক্ষ্যংছড়ি সদরেও ওষুধের দোকান ছাড়া সবধরণের দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মাছ, কাঁচা তরকারি, ও মুরগীর বাজারে প্রতিদিন সকালে বাড়ে ক্রেতা-বিক্রেতার ভীড়। এ ভিড়ে কেনাকাটায় হুড়োহুড়িতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা দুষ্কর। এ জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিত করতেই উপজেলা প্রশাসন ও এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের সিদ্ধান্তে স্কুল মাঠে বসিয়েছেন হাট।
নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা (টি,এস) ডা: আবু জাফর মো, ছলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসন সময়োপযোগী সিন্ধান্ত নিয়েছে। কারণ সকালে এ বাজারে যে পরিমাণ মানুষের ভিড় হয় তাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে না।
নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলফাস মিয়া আপু বলেন, শস্যভাণ্ডারখ্যাত এ উপজেলায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে আসা ক্রেতা-সাধারণ প্রতিদিন প্রশাসনের লোকজন দেখে, তাড়াহুড়ো লেগে যেত। এবার আর ওই সমস্যা থাকল না। নতুন হাটের ক্রেতা আব্দু রহমান জানান, এখানে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বাজার করা যাচ্ছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো,শফি উল্লাহ বলেন, সদর উপজেলায় জনসমাগম কমাতেই শহরের ভেতর থেকে তরকারি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরিয়ে স্কুল মাঠের দুই প্রান্তে বসানো হয়েছে। যাতে সদর উপজেলাবাসীর সকলেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাজার করতে পারেন।
উপজেলা আ,লীগ সহ-সভাপতি তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, এ বাজার উপজেলা সদরে যেখানে ছিল সে স্থানে জায়গা কম হওয়ায় সমস্যা হচ্ছিল। সকলের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে এ সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অনির্দিষ্ট কালীন সময় এ হাট বসবে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চলবে। তবে কেউ না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
