নলবুনিয়ার চর পর্যটকদের পদভারে মুখর

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago
নলবুনিয়ার চর

মো. জসিম উদ্দিন সিকদার, আমতলী |

অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা তালতলীর নলবুনিয়ার চর। তালতলীর ইউএনও বদরুদ্দোজা শুভর নামানুসারে এ চরের নাম রাখা হয় শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত পিকনিক স্পট।

প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকদের আগমনে মুখরিত থাকে এ পর্যটন এলাকা। তবে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় মুখ থুবড়ে পড়েছে এখানকার পর্যটনশিল্প। এছাড়াও আইসোটেক তাপ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে নবলুনিয়ার বনাঞ্চল।

প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এখানে এসে প্রকৃতির অপার দৃশ্য উপভোগ করেন। কিন্তু বর্ষার মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় তেমন পর্যটক আসেন না। এতে এ দৃষ্টিনন্দন স্পটটি ছয় মাস থাকে পর্যটক শূন্য। এ সময়ে সাগরপাড়ের জেলেদের বিচরণ থাকে সর্বত্র। অভিযোগ আছে, আইসোটেক তাপ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বন বিভাগের নিষেধ উপেক্ষা করে বনাঞ্চলের কাছ দিয়ে সাগর থেকে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে চরাঞ্চলটি। এতে হাজার হাজার গাছ ভেঙে পড়ে আছে। ভাঙতে শুরু করেছে বনাঞ্চল এলাকা।

বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পায়রা নদীর মোহনায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে বিশাল ঝাউবন। এ ঝাউবনের পাশে সাগরের চরে গড়ে তোলা হয়েছে শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত পিকনিক স্পট। মনোমুগ্ধকর এ দর্শনীয় স্থানটিতে যেতে নেই কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। পর্যটকরা নৌ-পথে এ চরের দৃশ্য দেখতে আসেন।

এখানে নেই কোনো হোটেল-মোটেল ও খাবার ব্যবস্থা। শুকনো মৌসুমে প্রতিদিন এ শুভ সন্ধ্যা পিকনিক স্পটে শত শত পর্যটকরা দেখতে আসেন। শীত মৌসুমে শিক্ষা সফর ও বনভোজনে আসা ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও সুধীজনের পদচারণায় মুখরিত থাকে নলবুনিয়ার শুভ সন্ধ্যা পিকনিক স্পট। এলাকাবাসীর দাবি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে নলবুনিয়া শুভ সন্ধ্যা পর্যটক স্থানটি সারা বছরই থাকবে সরগরম।
ফরেস্টার মো. মোতালেব মিয়া জানান, শীত মৌসুমে প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার পর্যটক আসেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বনবিভাগ সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আলমগীর হাওলাদার বলেন, তাপ বিদ্যুৎ কোম্পানি বনাঞ্চলের সন্নিকট থেকে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে নলবুনিয়ার চর। দ্রুত এ চররক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছি।

যুগান্তর