টেকনাফ ভূমি প্রশাসনের যোগসাজসে কায়ুকখালী খাল ১৫ রাক্ষসের গ্রাসে!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

খাঁন মাহমুদ আইউব, টেকনাফ, কক্সবাজার ।
কক্সবাজার’র টেকনাফে কালের সাক্ষী দীর্ঘ ৩ কিলোমিটার নাফ নদীর প্রধান শাখা খাল খ্যাত খাইয়ুকখালী খালটি মূলত ১৫জন দখলদারদের গ্রাসে ক্ষত বিক্ষত হয়ে মরা খালে পরিনত হয়েছে। হারিয়ে গেছে স্রোত। ফলে প্রতি বছর বর্ষায় অন্তত পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের ৯টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। এই সবের নেপথ্যে রয়েছে ভূমি প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঘুষ বানিজ্য।

বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ,নদীই এদেশের প্রান।নদী বাচাঁও দেশ বাচঁবে স্লোগানটি নিয়ে দেশের পরিবেশবাদী কিছু সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে কিন্তু কাজের ফল উত্তরোত্তর সফলতার মুখ দেখছেনা।তার কারন খতিয়ে দেখতে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে উঠে এসেছে ভয়াবহ ভাবে দখলদারদের কবলে উপজেলার স্রোতশীনি কায়ুকখালী খালটি মরা খালে পরিণত হয়েছে।হারিয়ে গেছে অনেকটা সুন্দর বনের আদলে গড়ে উঠা প্রাকৃতিক সুন্দর্য।

অতচ স্থানীয় প্রবীনদের মতে,এই খাল দিয়ে একসময় বানিজ্যিক নৌকা,ইঞ্জিন চালিত পণ্যবাহী বোট, শ্যালো যাতায়াত সহ লক্ষ লক্ষ পিসের বাঁশের (ভোর) ভেলা ইত্যাদি বানিজ্যিক উদ্দশ্যে আনা নেয়া হতো।বিগত ১০ বছর আগেও এই খালকে কেন্দ্র করে অন্তত হাজার দেড়েক পরিবার জিবীকা নির্বাহ করতো।এখনো করছে কিন্তু তুলনায় তা নগন্য।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য মতে,বিগত ২০১৫ সালের দিকে অনলাইন নিউজ পোটাল টেকনাফ টুডে ডটকম ও স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশের জের ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোজাহিদ উদ্দিন
উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে গোদারবিল এলাকার হোসেন আহমদের পুত্র জাহাঙ্গীর কর্তৃক খালে বাদ দিয়ে চিংড়ি ঘেড় নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো।

পরবতর্তীতে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে সে সময় কিছুই অবগত করেন নাই বলে অনুসন্ধানে তথ্য উঠে এসেছে।

এইভাবেই ককালের প্ররিক্রমায় হারিয়ে যেতে বসেছে খালটি।

এদিকে খাল দখলের ফলে প্রতিবছর উজান থেকে নেমে আসা পানিতে অলিয়াবাদ,নতুন পল্লান পাড়া,পুরাতনপল্লান পাড়া,গোদারবিল,ডেইল পাড়া,কলেজ পাড়া,কাইয়ুখালী পাড়া,সাইট পাড়া নাইট্যংপাড়া,কলেজ পাড়া,ডেইল পাড়া সহ অন্তত ৯টি গ্রামের পানি গতি রোধ হয়ে কোমর পানিতে প্লাবিত হয়। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।নেমে আসে জণ জীবনে দূর্ভোগ।কলেজ ও স্কুল মাদ্রাসাগূলো অনেক সময় পানিতে নিমর্জিত থাকে অতচ দেখার কেঊ নেই।অপরদিকে পৌর সভার নাইট্যংপাড়া খাইয়ুক খালী শাখা খাল হেচ্ছারখাল নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে।

সূত্রে জানা গেছে,বিগত সময়ে এই খালটি ড্রেজিং করার জন্য উপজেলা পরিষদের বাজেট আসার পরেও কাজ করতে না পেরে সেই বাজেট দিয়ে অন্যত্র কাজ করা হয়েছে।তার কারন হিসেবে কিছু ভূমি দস্যুদের স্থানীয় প্রভাব কে দ্বায়ী করছে স্থানীয়রা। দু’বছর আগে ১৪০ জন খাল দখলদারদের নামের তালিকা করে উপজেলা আইন শৃংখলা মিটিংএ পরিবেশ আইনে মামলা দায়ের করার একটি প্রস্তাব উঠে এসেছিলো কিন্তু তা অজানা কারনে তুবড়ে পড়ে।

এদিকে প্রতিবেদন তৈরীকালীন সময়ে উপজেলা তহসিল অফিসে গিয়ে তহসিলদার জনাব অবুল কালাম যথাযত তথ্য সর্বরাহ না করে গড়িমসি করার বিষয়টি প্রতিবেদনের প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয়েছে। ৩ দফা ধর্ণা দেয়ার পরে তিনি দখলদারদের তালিকা করে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বরাবরে প্রেরন করে তা পরবর্তিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রেরন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু কত জনের নামে এবং কতো তারিখ তালিকা করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছুই পরিষ্কার করে বলতে পারেন নাই।কয়েকটি সূত্র উপজেলা ভূমি প্রসাশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঘুষ বানিজ্যই খাল দখলের প্রধান কারন হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে।

অপরদিকে সার্ভেয়ারের অনৈতিক সুবিধা আদায়ের বিষয়টিও উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

এদিকে অলিয়াবাদ ও ইসলামাবাদ এলাকার পাশ ঘেষে খালের পাড় দখল করে বাঁধ দেয়ার ফলে খালের গতি পথ বেকে গিয়ে অন্যের জমি ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে এমন ১৫ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে সরেজমিন পরিদর্শনে।এসব দখলদারদের মাঝে আবার রোহিঙ্গা নারীও রয়েছে। স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও সুশীলদের অভিমত,এই ভাবে আর মাত্র কয়েক বছর বাদে নালাতে পরিনত হবে হয়তো তখনো ভূমি প্রশাসনের টনক নড়বে না!

পর্ব-১