টেকনাফ পৌর নির্বাচনঃ এমপি বদির জনপ্রিয়তায় এগিয়ে চলছে নৌকা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

খান মাহমুদ আইউব : টেকনাফ পৌর নির্বাচনের আর বাকী মাত্র এক দিন। আজ শুক্রবার রাত ১২ টার পর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা। ইতোমধ্যে বেশ জমে উঠেছে নির্বাচনী কার্যক্রম। শুরুর দিকে নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ দেখা না গেলেও শেষের দিকে এসে ভোটারদের মাঝে বিরাজ করছে ভিন্ন আমেজ। এবারে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন নৌকা প্রতিকে মেয়র হাজী মোঃ ইসলাম এবং মোবাইল প্রতিকে জামায়াত নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ ইসমাইল। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। নৌকার পক্ষে সাবেক সাংসদ নিজে প্রচার প্রচারনায় অংশ নিলেও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী প্রচার প্রচারনা ফেইসবুক কেন্দ্রীক সীমাবদ্ধ।

টেকনাফ নির্বাচন অফিসের সূত্র মতে, পৌর সভায় মোট নারী পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৫, তৎমধ্যে পুরুষ ভোটার- ৮হাজার ৩১২, নারী ভোটার ৭হাজার ৭৭৩ জন। ৯টি ওয়ার্ডে এবারে নারী পুরুষ মিলিয়ে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করছে মোট ৩৩ জন।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, টেকনাফ পৌর সভার টানা দুই বারের মেয়র হাজী মোঃ ইসলাম । সফলতা ও ব্যর্থতা মিলিয়ে তিনি এবারেও নৌকার প্রতিকে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। নিজের সমর্থন আদায়ে ভোটারদের ধারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। পৌর আওয়ামীলীগ ও পৌর যুবলীগের একাংশ নৌকার জন্য মাঠে কাজ করছে। আওয়ামীলীগের প্রথম সারির কোন নেতাদের মাঠে দেখা না গেলেও নৌকা বিজয়ের জন্য সার্বক্ষনিক মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি। এই পর্যন্ত বদির জনপ্রিয়তার কারনে সাধারণ ভোটারদের সমর্থনে এগিয়ে রয়েছে নৌকা।

অপরদিকে, পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর জামায়াত নেতা মুহাম্মদ ইসমাইল শুরুর দিকে যাচাই বাচাই পর্বে মনোনয়ন বাতিল হলেও পরবর্তিতে উচ্চ আদালতে রীট করলে আদালত মনোনয়ন বৈধতা ঘোষনা করেন। এর পর থেকেই তিনি মোবাইল ফোন প্রতিক নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেন। এই পর্যন্ত স্বশরীরে প্রচারনায় ব্যাপক ভাবে ইসমাইলের অংশ গ্রহন চোখে পড়েনি। তবে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে তার নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় বাধা প্রধান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর বিরুদ্ধে। প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী এই অভিযোগ মিথ্যা দাবী করেছেন।

তবে নির্ভর যোগ্য কিছু সূত্র জানিয়েছে, গত জোট সরকারের আমলে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বকালীন সময়ে কথিত ফেডারেশন নামক একটি সংগঠন গঠন করেছিলেন তিনি। সেই সংগঠনের সদস্যরা গোপনে মোবাইল ফোন প্রতিকের পক্ষ হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশপাশি জামায়াত ও বিএনপির দলিয় নেতা কর্মীরা অধিকাংশ গোপনে তার পক্ষে মাঠে নেমেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য, মেয়র ইসলাম নৌকার মনোনয়ন পাওয়াতে প্রথম সারির কিছু আওয়ামী রাজনৈতিক নেতারা বেশ বেজার। তাই তারা এই পর্যন্ত নৌকার পক্ষে মাঠে নামেনি। যদি সেই সব রাজনৈতিক নেতারা গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসমাইলের সাথে আতাত করে মোবাইল প্রতিককে সমর্থন জানালে তবে নৌকার বিজয় অনেকটা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তারা আরো বলে- যদিও হাজী ইসলাম এর নিজস্ব কোন ভোট ব্যাংক নেই। সুতরাং নির্বাচিত হতে গেলে সাবেক এমপি বদির জনপ্রিয়তা ও নিজস্ব বোট ব্যাংক কাজে লাগানোর কোন বিকল্প নেই।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বেদারুল ইসলাম জানান, কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী শুক্রবার রাত ১২ টার পর থেকে নির্বাচনী সকল প্রচার প্রচারনা বন্ধ হয়ে যাবে। এই পর্যন্ত নির্বাচন কেন্দ্রীক বড় কোন সহিংসতার তথ্য পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তার স্বার্থে সার্বক্ষনিক আইনশৃংখলা বাহিনী মাঠে থাকবে।