টেকনাফ পৌর এলাকার ৩টি পাড়া মাদক ও রোহিঙ্গাদের ঘাটিতে পরিণতঃ অভিযান জরুরী

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

টেকনাফ :
টেকনাফ পৌর এলাকার যে ক’টি ওয়ার্ড বা পাড়া রয়েছে তার মধ্যে নাইট্যং পাড়া, পুরাতন পল্লান পাড়া ও ইসলামাবাদ এ ৩টি পাড়া এখন মাদক ও রোহিঙ্গাদের ঘাটিতে পরিনত হয়েছে। প্রায় ভাড়াবাসা ও বাড়ীতে মাদক ব্যবসা, খুচরা ব্যবসা ও পাচারের রমরমা বাণিজ্য চলছে। অচেনা অজেনা মানুষের আগমন ও বসবাস সম্প্রতি বৃর্দ্ধি পেয়েছে। অনুসন্ধান করতে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। তথ্য মতে নাইট্যং পাড়া, পুরাতন পল্লান পাড়া ও ইসলামাবাদ এ ৩টি পাড়া বনাঞ্চল, প্রশাসন ও সড়ক সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় এখানে মাদক ব্যবসা ও রোহিঙ্গাদের বসবাস পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ডের চেয়ে অনেকাংশে নিরাপদ। তাই মাদক ব্যবসায়ী ও রোহিঙ্গারা এ ৩টি পাড়াকে সুবিধাজনক হিসাবে বেচে নিয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করায় এখানে দলে দলে রোহিঙ্গারা আবাসন গড়ে তুলেছে। স্থানীয় ভূমিদস্যু চক্রের সহযোগিতায় টেকনাফ বনবীটের সংরক্ষিত বনাঞ্চল রোহিঙ্গাদের পল্লীতে পরিনত হয়ে বিশাল বনাভূমি বনবিভাগের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। কেরুনতলী, নাইট্যং পাড়া ও পুরাতন পল্লান পাড়া সংলগ্ম পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উছেছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন পাকাভবন ও ইমারত। এছাড়া গহীন অরণ্যে বসতি স্থাপনসহ বনভূমি ক্রয় বিক্রয়ের মহৌৎসব চলছে। এভাবে চলছে বনাঞ্চলে রামরাজত্ব। ক্রমান্নয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলটি হয়ে যাচ্ছে ন্যাড়া মাথায়। দিনাদিন প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হয়ে এখন বসবাস অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। বনাঞ্চলে বিদ্যুতের খুটী এবং মিটার স্থাপিত হওয়ায় অনুপ্রবেশকারী অবৈধ রোহিঙ্গারা এখানে স্থাপনা নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস গঠতে দলে দলে রোহিঙ্গারা চলে আসার হিড়িক বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় ভাড়াবাসায় আইডি কার্ড ছাড়াই বাংলাদেশী নাগরিক সেজে বসবাস করছে। বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রিত পুরাতন ও নতুন নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে বসবাস না করে ভাড়া বাসায় অবস্থান করছে এবং মাস শেষে রেশন সামগ্রী নিয়ে চলে আসে। রোহিঙ্গা প্রেমিক ভাড়াবাসার মালিক বিভিন্ন অপকর্মের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের ভাড়া বাসায় আশ্রয় ও পশ্রয় দিচ্ছে। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারী কালো ব্যবসার স্বার্থে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দিয়েই মাদক ব্যবসা ও পাচার কাজে ব্যবহার করছে। ইসলামাবাদ, পুরাতন পল্লান পাড়া এবং নাইট্যং পাড়া এখন মাদকের রমরমা বাণিজ্য চলছে। মাদক বা ইয়াবা ব্যবসা করে অনেকেই হঠাৎ কালোটাকায় আংগুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হয়ে পাল্টে যাচ্ছে তাদের জীবন যাত্রার মান। গড়ে উঠছে, দৃশ্যমান বড় বড় ইমারত। সম্প্রতি আইন শৃংখলা বাহিনীর মাদকসহ ব্যবসায়ীরা আটক হলেও সামান্য মাদক দেখিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পরদিন আদালত থেকে জামিনে চলে আসে। যার কারণে মাদকের দৌরাতœা কমছেনা। তালিকাভূক্ত ও নব্য মাদক ব্যবসায়ীদের অপকর্মের কারণে এ তিন ওয়ার্ডের যুব সমাজ মাদকের দিকে ঝুকে পড়ছে। অভিভাবক এ নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ম। এর সাথে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, অসমাজিক কার্য্যকলাপসহ বিভিন্ন অপকর্ম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটার আশংখা বিরাজ করছে। এ নিয়ে অনেকেই আশংকার মধ্যে ভোগছে। উপজেলা প্রশাসন এলাকা সংরক্ষিত না থাকায় এখানে অজেনা অচেনা মানুষের আগমন ও যাতায়াত সন্দেহজনক। প্রশাসন চত্তর এলাকায় দিবানিশি অবাধ যাতায়াত চলে। রাত্রে নেশপ্রহরী না থাকার কারণে দপ্তর সমূহ থাকে ফাঁকা। অতীতে মাদকদ্রব্য অফিসে চোরের দল হানা দিয়ে সংরক্ষিত ৪লাখ ইয়াবা নিয়ে যায়। এলাকাবাসী মাদক ও রোহিঙ্গা উৎপাত রোধে আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযান নিতান্ত জরুরী বলে মনে করেছেন। নচেৎএর মাত্রা ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাবে। এমন আশংখা করছেন অনেকেই। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) রনজিত কুমার বড়–য়া বলেন, বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। শিগ্রি সাড়াশি অভিযান শুরু হবে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করুণ। চলবে…..