টেকনাফ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন পল্লী চিকিৎসকগণ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

শাহ মুহাম্মদ রুবেল :
টেকনাফ উপজেলায় প্রায় অর্ধ কোটি মানুষের বসবাস। এখানে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পাশাপাশি কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। সচরাচর নিম্ন শ্রেণির মানুষ সরকারি বা পল্লী চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল থাকে। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে তারা উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত থাকে। সমাজের বিরাট একটা অংশ অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত বা অসচেতন। আধুনিকতার ছোঁয়া তাদেরকে স্পর্শ করতে পারেনি। জীবন মানে তাদের কাছে কোন রকম রকম দুবেলা-দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকা। এমন বাস্তবতায় তাদের পরিবারের কোন সদস্য যদি অসুস্থ হয় তাহলে তারা সম্পূর্ণরূপে পল্লী চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে পল্লী চিকিৎসকদের কাছে শরণাপন্ন হয়ে যদি যদি তাদের সাধ্যের বাইরে থাকে তাহলে তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য জন্য কক্সবাজার বা চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে রেফার করে তাকে। তখন তারা সেখানে গিয়ে চিকিৎসা করার জন্য চিন্তা বা প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। সেক্ষেত্রেও তাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে একটা বড় সময়ের সময়ের প্রয়োজন হয়। কারণ এসব নিম্ন শ্রেণীর মানুষদের সঞ্চিত কোন টাকা থাকে না না টাকা থাকে না না। সে ক্ষেত্রে তারা তাদের আত্মীয়স্বজন বা সমাজের বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীল হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে গ্রাম অঞ্চলে এখনো পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ গ্রামের কোন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে সর্বপ্রথম তারা পল্লী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন সেক্ষেত্রে সেক্ষেত্রে হন সেক্ষেত্রে তাদের সহজলভ্যতা এবং আন্তরিকতায় প্রধান কারণ বলে তিনি মনে করেন।

বর্তমান সরকার চিকিৎসা সেবায় আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতার প্রেক্ষিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেটার সুফল কতটুকু পাচ্ছে প্রান্তিক মানুষগুলো সেটা সেটা নিয়ে কাজ করার তাগিদ দেন স্থানীয় এই বাসিন্দা।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের যারা এমবিবিএস এফসিপিএস চিকিৎসক রয়েছেন তাদের সাথে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের কোন সুযোগ নেই সুযোগ নেই। এসব প্রান্তিক মানুষগুলো তাদের থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ সেবা গ্রহণ করতে অনেক ঘাত প্রতিঘাত পার করতে হয়। এই কারণে প্রান্তিক মানুষগুলো পল্লী চিকিৎসক গনের উপর গনের উপর বেশি নির্ভরশীল থাকে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হানিফ বলেন, এমবিবিএস বা এফসিপিএস চিকিৎসকগণের ভিজিটিং কার্ডে যে নাম্বারগুলো নাম্বারগুলো থাকে সেগুলো মূলত তাদের কম্পাউন্ডারের। তাও দেয়া হয় সিরিয়াল নেয়ার জন্য। সে ক্ষেত্রে বিশেষ বা জরুরি কোন প্রয়োজনে প্রয়োজনে কোন প্রয়োজনে প্রয়োজনে সেসব চিকিৎসকগণের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়না। ফলে পল্লী চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের জনৈক চিকিৎসকের নিয়মিত রোগী ছিলেন ছিলেন ছকিনা বেগম (ছদ্মনাম)। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার সন্তান সে ডাক্তারের পরামর্শের জন্য ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরের দিন সে সে জনৈক ছকিনা বেগম মৃত্যু কোলে ঢলে পড়েন পড়েন ঢলে পড়েন পড়েন। তার ছেলে আফসোস করে বলেন জীবনের ওই কঠিন সময়ে যদি ডাক্তারের পরামর্শ পেতাম তাহলে হইতো আমার মাকে মাকে পৃথিবীতে আরো দু’একদিন দেখার সুযোগ পেতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের দেশের চিকিৎসকগণ দু’একদিন দেখার সুযোগ পেতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের দেশের চিকিৎসকগণ আমাদের দেশের চিকিৎসকগণ আমাদের মত সাধারন মানুষ গুলোকে মানুষ হিসেবে মনে করে না মানুষ গুলোকে মানুষ হিসেবে মনে করে না মানুষ হিসেবে মনে করে না। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকদের চিকিৎসক হওয়ার আগে ভালো মানুষ হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অন্ন বস্ত্র বাসস্থান স্বাস্থ্য শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। বেঁচে থাকার জন্য যেমন খাদ্য গ্রহণ করতে হয়, তেমনি সুস্থ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজন চিকিৎসা ব্যবস্থার। এই চিকিৎসাসেবায় যারা জড়িত তাদের দেবদূতও বলা হয়। মহান পেশা চিকিৎসা সেবা। এই পেশায় বাংলাদেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামগঞ্জের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবায় প্রায় ১০ লক্ষেরও অধিক পল্লী চিকিৎসক ও পল্লী দন্ত চিকিৎসকগণ নিয়োজিত আছেন। তারা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে রাত বিরাতে রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিয়ে বিরাট জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জন করেছেন কেননা একটি স্বাস্থ্যসমৃদ্ধ জাতি দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব ও কর্তব্য হিসেবে স্বীকৃত। এই অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বাংলাদেশ সরকার সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে গ্রহণ করেছে। গত দুই দশকে এ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। প্রজনন হার ও মৃত্যু হার হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, নবজাত শিশু ও মাতৃ-মৃত্যু হ্রাসের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবার আধুনিকায়নে ও প্রসারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন অবকাঠামো স্থাপন অব্যাহত রয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারি সম্পদের দিকে লক্ষ্য রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ও মান বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দেশের সকল মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে- দেশের সকল মানুষের বিশেষ করে নারী, শিশু ও দরিদ্র জনসাধারণের জন্য যথাযথ মানসম্পন্ন মৌলিক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করা।

দেশের মোট জনসংখ্যার জন্য রেজিস্টার্ড চিকিৎসক রয়েছেন ষাট হাজারের মতো।
এদের সিংহভাগ থাকেন শহরে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, উপজেলা প্রতি চার থেকে পাঁচ লাখ লোকের জন্য চিকিৎসক আছেন সর্বোচ্চ দশ জন। এদের এই শূন্যতা পূরণ করে আসছে গ্রাম ডাক্তার, পল্লী চিকিৎসক ও পল্লী দন্ত চিকিৎসকরা।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে। এই গ্রামাঞ্চলে এমবিবিএস পাশ করা ডাক্তার নেই বললেই চলে, ফলে গ্রাম পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার জন্যে