টেকনাফে শীর্ষ মাদক কারবারীরা অধরা, বিজিবি সেপ্টেম্বর মাসেই ৪৪ কোটি টাকার মাদক জব্দ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফ মাদকের গেটওয়ে হিসাবে খ্যাত এবং দেশে সিংহভাগ মাদক স্থল ও সাগর পথে মাদক পাচার হয়ে যায়। এর পূর্বে বিস্তীর্ণ নাফ নদী ও দক্ষিণ পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে টেকনাফ মাদকের গেটওয়ে বলা যায়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মাদক চোরাকারবারীরা টেকনাফকে মাদকের ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহার করছে। মাদকদ্রব্যের তথ্যানুযায়ী টেকনাফ থেকে ৭০% শতাংশ মাদক স্থল ও সাগর পথে পাচার হয় এবং এছাড়া সাগর পথ পাচারে শীর্ষে। স্থানীয় বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে মাদক জব্দ হলেও শুধুমাত্র পাচারকারীরা আটক হয়। রাখব বোয়ালেরা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে। দেশে মাদকের ভয়াবহতা রোধে সরকার মাদক বিরোধী অভিযান চলমান রেখেছে। অভিযানে মাদক জব্দ হলেও শীর্ষ তালিকাভূক্ত মাদক কারবারীরা আতœগোপনে থাকায় মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণে আইন শৃংখলা বাহিনী তেমন আশাতীত সফলতা অর্জন করতে পাচ্ছেনা। উখিয়া উপজেলার রহমতের বিল থেকে টেকনাফের বদরমোকাম পর্যন্ত ৫৩ কিঃ মিটার সীমান্তজোড়ে ১৫টি চোরাইপয়েন্ট দিয়ে মাদকসহ অন্যান্য চোরাইপণ্য প্রবেশ করে। এর মধ্যে ৯টি আলোচিত চোরাইয়েন্ট থাকে অরক্ষিত এবং এসব চোরাাইপয়েন্ট দিয়ে বেশীরভাগ মাদক ও রোহিঙ্গা সবার শীর্ষে রয়েছে। স্থানীয় শীর্ষ মাদক চোরাকারবারীরা এর নিয়ন্ত্রন করে আসছে। টেকনাফ বিজিবি গত সেপ্টেম্বর মাসে স্থল ও নৌ-পথে পৃথক চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ৪৪ কোটি ২৮ লক্ষ ৪৪ হাজার ২৯৪ টাকা মূল্যের মাদকসহ অন্যান্য চোরাইপণ্য জব্দ করে। এর মধ্যে ইয়াবা ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৬শত ৮৯পিস ইয়াবা সবার শীর্ষে। এর সাথে গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৩জন চোরাকারবারীকে মামলার সংখ্যা ৬৫ অপর দিকে র‌্যাব-৭ একই মাসে ১৫ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকার ইয়াবা জব্দ করে। আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক কারবারীরা অভিনব কায়দায় মাদক পাচার এখন বেপরওয়া, কেননা সামনে নির্বাচন ও পর্যটন মওসূমকে সামনে রেখে শীর্ষ মাদক কারবারীরা ইয়াবা তথা মাদকের সোনার হরিণ পেতে এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর দৃশ্যমান মাদক বিরোধী অভিযান থমকে যাওয়াতে এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। ওরা মাদক পল্লী এলাকায় প্রকাশ্যে অবস্থান করছে বলে জানা যায়। শীর্ষ মাদক কারবারীরা মাদকের কালিমা থেকে বাঁচতে ওরা কালোটাকা সাদা করতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাজধানী ঢাকাসহ প্রসিদ্ধ শহরে ইয়াবা বা মাদকের চাহিদা থাকায়, টেকনাফ সীমান্তের স্থল ও নৌপথে চাহিদা মেটাতে যোগান বাড়ছে। প্রতিনিয়তই আইন শৃংখলা বাহিনীর পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও মাদকের চালান জব্দ হচ্ছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পর্যটন মওসূম। এ উপ লক্ষ্যে ইয়াবা কারবারীরা কালোটাকার মিশন অর্জনে তৎপর। ওদেরকে আইনের আওতায় আনা না হলে কোন মতেই মাদক নিয়ন্ত্রন আশা করা যাবেনা। এমন মন্থব্য সীমান্ত এলাকার সচেতন মহল ও সূশীল সমাজের।