হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে মাদক কারবারী ও শিশু অপহরণকারী চক্রের ৩জন সদস্য পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে।
হাসপাতাল সুত্র জানায়, গত ৬মে রাত পৌনে ১২টারদিকে টেকনাফ উপজেলার লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে পুলিশ অভিযানে গেলে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলিবর্ষণ করলে পুলিশের কনস্টেবল সেকান্দর, এরশাদুল ও সৈকত বড়ুয়া আহত হয়। পুলিশও আতœরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে কিছুক্ষণ পর দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল তল্লাশী করে গুলিবিদ্ধ ও মুমূর্ষাবস্থায় উখিয়া উপজেলার থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-২ ব্লকের মোক্তার আহমদের পুত্র নুর আলম (২১), সি-১ ব্লকের নুর মোহাম্মদের পুত্র শামসুল আলম (৩৫) এবং লেদা রোহিঙ্গা বস্তির আজিজুর রহমানের পুত্র হাবীব (২০)কে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া আহত পুলিশের ৩জন কনস্টেবল সেকান্দর, এরশাদুল ও সৈকত বড়ুয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ৭জুন শুক্রবার সকালে মৃতদেহ সমুহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের অফিসার্স ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ, উপরোক্ত অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরো জানান এই ব্যাপারে তদন্ত স্বাপেক্ষে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে বিশ্বস্থ একটি সুত্রের দাবী নিহতরা, গত ১জুন লেদা সি-ব্লকের ২২৩নং রোমের বাসিন্দা আবু ছিদ্দিকের পুত্র রমজান আলী (৩)কে অপহরণ করে ৫লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে আসছিল। অপহৃতের পরিবার দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর শরণাপন্ন হয়। আইন-শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতায় তাদের থাইংখালী হতে আটক করে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা মাদক কারবারী ও সংঘবদ্ধ শিশু অপহরণকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাম্প ও লোকালয় হতে শিশু অপহরণ করে মোটাংকের মুক্তিপণ আদায় করে নিজেদের আগের গোছাচ্ছে। ক্যাম্পের শান্তি-শৃংখলা বিনষ্ট করে আসছে।
