বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফের হোয়াইক্যং নয়া বাজারে মাদকসেবী দূর্বৃত্তদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ১জন নিহত ও অপর ২জন আহত হয়েছে। এই ঘটনার জেরধরে নিহতের অনুসারী ও স্বজনেরা ক্ষুদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ ও তাদের অনুসারীদের বসত-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ভাংচুর চালিয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,১৭নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টারদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউপির নয়াবাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি মাদক সেবন করে গালি গালাজ ও উশৃংখল আচরণ শুরু করে। এক পর্যায়ে জনৈক হাবিবুল্লাহ বদি আলমকে লাঞ্চিত করার চেষ্টা চালায়। তা নিয়ে দুজনের গ্রæপের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি মেম্বার বাদশা মিয়ার নজরে এলে তা সমাধানের আশ^াস দেওয়ার পরও উত্তেজনা দেখা দিলে জাহেদ হোছন উত্তেজিত বদি আলমকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে বাজারের আসার পথে হাবিব উল্লাহ ও তার অনুসারী সাতঘরিয়া পাড়ার আব্দুস সালামের পুত্র আব্দুর রহমান প্রকাশ গুরাইয়া জাহেদকে লাঞ্চিত ও মারধর করে। জাহেদ বাজারে এসে বিষয়টি বদি আলমকে অবহিত করলে তারা জড়ো হয়ে অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আব্দুর রহমানের বাড়িতে যাওয়ার পথে দুপক্ষ মুখোমুখী হলে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সুত্রপাত হয়। এতে আব্দুর রহমান ও কামাল উদ্দিনের পুত্র সালমান গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত হয়ে আহত হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়।
এদিকে গুলিবিদ্ধ ও দা-ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত আব্দুর রহমান প্রকাশ গুরাইয়াকে দ্রæত উদ্ধার করে হ্নীলা ষ্টেশনের প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর কক্সবাজার রেফার করা হয়। কক্সবাজার নেওয়ার পথে অবস্থা আশংকাজনক হলে পালংখালীর গয়ালমারা এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। আব্দুর রহমান মারা যাওয়ার খবর এলাকায় প্রকাশ হলে হাবিব উল্লাহ গং ও নিহতের স্বজনেরা জাহেদ হোছন, হামিদ হোছন ও সাদ্দাম হোছনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। সকালে একই গ্রæপ রিফাত মোহাম্মদ জাকারিয়ার বাড়িতে ভাংচুর চালায়।
এই ঘটনার খবর পেয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়রি আইসি মোজাহেরুল ইসলাম সর্ঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর পোস্টমর্টেমের জন্য মৃতদেহ থানায় নিয়ে যায়।
নিহত আব্দুর রহমানের মা-বোনের দাবী, জাহেদ ও বদি আলমের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ এসে এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে। তা নিয়ে এলাকায় আবারো অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা দেখা দিয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, এলাকায় মাদক চোরাচালান ও অস্ত্রপাচারসহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। তারপরও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ টহল জোরদার রয়েছে।
এদিকে নিহত আব্দুর রহমানের মৃতদেহ পোস্টমর্টেম শেষে ১৮নভেম্বর বিকালে বাড়িতে আনা হয়। বাদে এশা বাহারুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। এই ঘটনার পর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের পাশাপাশি আতংক বিরাজ করছে। ###
