টেকনাফে প্রশাসন ও বন কর্তৃপক্ষের নাকের ডগার উপর বনাঞ্চল নিধনের মহো উৎসব

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
টেকনাফ সীমান্তের সদর বনবিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগার উপর সংরক্ষিত বনভূমি ও সামাজিক বনায়ন ভূমিদস্যুচক্র ও রোহিঙ্গাদস্যু কর্তৃক হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। গত ১০ নভেম্বর টেকনাফ পুরাতন পল্লানপাড়া ও নাইট্যংপাড়া সংলগ্ম স্থানীয় সংরক্ষিত বন বীটের নুর আহমদ গোনা ও ফকিরা মোরা ও ভিলেজার নাজির হোছন বৈধ্যের ঘোনা নামে খ্যাত বিস্তীর্ণ বনভূমি স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সরেজমিন পরিদর্শন করে ভয়াবহ চিত্র ও তথ্য সংগ্রহ করে বলেন, স্থানীয় বনবিভাগ ও প্রশাসনের চোখের সামনে যদি সরকারী বনভূমি স্থানীয় ভূমিদস্যু ও রোহিঙ্গাদস্যু কর্তৃক এভাবে দখল প্রতিযোগিতা চলে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে সংরক্ষিত বনভূমি ও সামাজিক বনায়ন একটি রোহিঙ্গা পল্লীতে পরিনত হবার আশংখা করছেন অনেকেই। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায় গত একযোগে কেরুনতলী, বরইতলী, নাইট্যংপাড়া, পুরাতন পল্লান পাড়া ও জাঁহালিয়া পাড়া সংলগ্ম বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে অবৈধ ভাবে বসতি স্থাপন, পাহাড় কর্তন ও বৃক্ষনিধন অতীতের সকল রেকডর্কে ভঙ্গ করেছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীর অরণ্যে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন, সমান করণ, প্লট বাণিজ্য, পাঁকা ভবণ, মসজিদ, ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ও সামাজিক ক্লাবসহ অসংখ্যা স্থাপনা বেঙ্গের ছাতার ন্যায় গজে উঠেছে। পাহাড়ের পাদদেশে ইদানিং অবৈধ স্থাপনা ও ভবন নির্মাণ চোখে পড়ার মতো। নাইট্যং পাড়া ও পুরাতন পল্লান পাড়ার এ দৃশ্যটি ভয়াবহতা লক্ষণীয়। ২০০২ সালে টেকনাফ পৌরসভা স্থাপিত হবার পর এবং পর্যটন এলাকা হিসাবে প্রাধান্য পাবার পর টেকনাফের আশাতীত জায়গা জমির দাম ক্রমান্নয়ে বৃর্দ্ধি পায়। ফলে স্থানীয় ভূমিহীন লোক ও অবৈধ রোহিঙ্গা নাগরিক বনভূমিতে বসতি স্থাপনের সুযোগ করে দেয়। স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র শাসকদলের কতিপয় নেতা, বন পাহারাদার (জাগীর) ও রোহিঙ্গাদস্যুরা মিলে এ বনাঞ্চলে তাদের আধিপাত্য বিস্তার চলছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বনভূমি প্লট তৈরী করে প্লট দখলের রমরমা বাণিজ্য চলছে। প্রতি কড়া ভূমি বেছাকেনা চলছে ২০/৩০ হাজার টাকা। এ পাহাড়টি এখন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের দখলে চলে যাচ্ছে। যাকে এক কথায় ভোট ব্যাংক হিসাবে পরিচিত। খতিয়ানভূক্ত বৈধ ভূমির উপর এবং স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হলেও, তা নিয়ে সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বনাঞ্চলের ভিতর বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার ফলে বনভূমিতে অবৈধ বসতি স্থাপন আশংখাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে আসছে। বনাঞ্চলের পাদদেশে পরিবর্তেও বিভিন্ন স্থাপনা সমারোহ। যেন এ পাহাড় ন্যাড়া মাথার ন্যায়। গত এক পূর্বে এ বনাঞ্চলে হাতীর পালসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখা মিলতো, বর্তমানে প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে। বনাঞ্চলে মানুষের বসতি স্থাপন এবং খাদ্য কমে যাওয়ায় এখানে বন্যপ্রানী অবাধ বিচরণ তেমন দেখা যায়না। বলতে গেলে এ বনাঞ্চলটি এখন নানা অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিনত। এখন ইয়াবা, মাদক, দস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অসমাজিক কার্য্যকলাপের জন্য এটি একটি অপরাধ ঘাটিতে পরিনত হয়েছে। এসব অপকর্মের মূলতঃ হোতা হচ্ছেন, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিকেরা। নেপথ্যে এদের আশ্রয় পশ্রয় দিচ্ছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বায়োমেট্টিক রেজিষ্টেশন কার্ড নিয়ে ক্যাম্পে আশ্রয় নেয় এবং রেশন সামগ্রী নিয়ে টেকনাফ পুরাতন পলানপাড়া ভিলেজার নুর আহমদ ঘোনাসহ বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থান নেয়। টেকনাফ বনবীট কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। শিগ্রী এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির নেত্রীবৃন্দ বলেন, এভাবে সরকারী পাহাড়ে মিয়ানমারের অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিলে ভবিষ্যতে এই পাহাড়টি বৃক্ষও বণ্যপ্রাণী শূণ্য হবে। পাশা পাশি অত্র এলাকায় পরিবেশের বিরুপ প্রভাব পড়বে। তাই এদের উচ্ছেদের জন্য সেনাবাহিনীর উচ্ছেদ কামনা করেছেন, নেত্রীবৃন্দরা।