বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্টে চিহ্নিত দূবৃর্ত্ত চক্র মাদকের চালান খালাস, মওজুদ ও সরবরাহের পাশাপাশি অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ভারী অস্ত্র সংগ্রহ করতে গিয়েই দেশীয় তৈরী একে ৪৭ রাইফেল এবং ৫ রাউন্ড বুলেটসহ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে আতœস্বীকৃত ইয়াবা কারবারী ও দূবৃর্ত্ত চক্রের সদস্য হারুন পালিয়েছে।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল এন্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ বিল্লাল উদ্দিন জানান,গত ৫সেপ্টেম্বর দুপুর ১টারদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ বাহারছড়া নয়াপাড়ায় কতিপয় ব্যক্তি মাদক বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। তাৎক্ষণিকভাবে র্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কতিপয় ব্যক্তি দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দল ধাওয়া করে কক্সবাজার বড় মহেশখালী মাঝের ডেইলের মৃত আঞ্জু মিয়ার পুত্র রবি আলম ওরফে ইব্রাহিম (২৭) এবং হ্নীলা আলীখালীর মৃত ঠান্ডা মিয়ার পুত্র মোঃ ইসমাইল (২৫) কে ১টি প্লাস্টিকের বস্তাসহ আটক করতে সক্ষম হলেও দক্ষিণ আলীখালীর রশিদ মিয়ার পুত্র হারুন (২৮) পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত ১নং ব্যক্তির হাতে থাকা প্লাস্টিকের বস্তা তল্লাশী করে ১টি দেশীয় তৈরি একে-৪৭ সদৃশ রাইফেল এবং ২নং ধৃত ব্যক্তির পরিহিত লুঙ্গির ডান কোচায় থাকা ১টি থ্যাতলানো গুলিসহ ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান,গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণার্থে টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানায়,হ্নীলা আলীখালীর রশিদ মিয়া পরিবারের সব ছেলেরা মাদক চোরাচালান এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারে সম্পৃক্ত। তারা পেশীশক্তির দাপটে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বিশেষ সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে ভারী অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাদকের চালান খালাস করে থাকে। এই অবৈধ কর্মকান্ডে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে গিয়েই গড়ে তুলে স্বশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। যাই হোক আইন-শৃংখলা বাহিনীর চাপের মুখে প্রথম দফায় ১০২জন আতœস্বীকৃত ইয়াবা কারবারী আতœসর্ম্পণ করে। তম্মধ্যে পলাতক রশিদ মিয়ার পুত্র মোঃ হারুন (২৭) ছিল। জামিনে আসার পর জনৈক বার্মাইয়া ছৈয়দ নুরের সাথে সিন্ডিকেট করে মাদকের বড় বড় চালান খালাস করত। তাদের চালান বহণ করতে গিয়েই অনেকে আটক হয়ে এখনো কারাগারে রয়েছে। দৈব ঘটনায় পৃথকভাবে বার্মাইয়া ছৈয়দ নুর এবং হারুন আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে আটক করে কারাগারে ছিল। জামিনে এসে আবারো মাদকের স¤্রাজ্য ধরে রাখা এবং ২৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধীদের শায়েস্তা করতে এসব ভারী অস্ত্র সংগ্রহের মিশনে নামে। তা কৌশলে আনতে গিয়েই র্যাব সদস্যদের হাতে অস্ত্র-বুলেটসহ দুইজন আটক হলেও অপকর্মের নাটের গুরু হারুনকে আটক করতে পারেনি।
টেকনাফের প্রত্যন্ত এলাকায় মাদক কারবারী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের দৌরাতœ্য এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে কেউ এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানির সম্মুখীন হতে হয় বলেই নিরীহ সাধারণ মানুষ এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেনা। তাই এসব অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানিয়েছে। ###
